নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দল থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদি এটা সত্য হয়ে থাকে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি মনে করি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমাকে জনগণের জন্য মুক্ত করে দিয়েছেন। এখন আমি রিকশাওয়ালাদের তৈমূর, রিকশাওয়ালাদের কাছে ফিরে যাব। ঠেলাগাড়িওয়ালাদের তৈমূর, ঠেলাগাড়ি ওয়ালাদারের কাছে ফিরে যাব। আমি গণমানুষের তৈমূর, গণমানুষের কাছে ফিরে যাব।’
সোমবার নিজ বাড়িতে বিএনপির এই সিদ্ধান্তের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে আজ বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তৈমূরকে অব্যাহতির বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন।
তৈমূর আলম বলেন, ‘২০১১ সালে ভোটের ৫ ঘণ্টা আগে দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে যাই। কিন্তু দলকে আজ পর্যন্ত প্রশ্ন করিনি, কেন আমাকে সরিয়ে দেওয়া হলো? এতে জাতির কোনো উপকার হয়েছে কি না! তবে সরকারদলীয় প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকার প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকে মনে করতে পারেন, এইবার নৌকার প্রার্থীকে জয়লাভ করার জন্য আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা এমনটা মনে করতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি, আমার দল আমার উপকার করেছে। আমি ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। আমি রাস্তার মানুষের পাশে ছিলাম, বস্তিতে বস্তিতে ছিলাম, সেখানেই ঘুরে বেড়াব। আমি রাজপথ ছাড়িনি। এখনো জনগণের সঙ্গে রাজপথে আছি।’
বিএনপির নেতা-কর্মীরা পাশে থাকবেন কি না, তাদের ভোট পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘যারা বিএনপিতে ভোট দেন, তারা কি নৌকায় ভোট দেবেন? দলের যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা কি মনে করেন নৌকার প্রার্থীকে পাস করানোর জন্য তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে থাকার জন্য যেকোনো স্যাক্রিফাইস করার জন্য আমি প্রস্তুত। আমি ২০১১ সালে দলের কথায় নিজেকে আত্মাহুতি দিয়েছি। এইবার ২০২২ সালে এসে জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম।’
তিনি মনে করেন, বিএনপির পরীক্ষিত লোকজন তার সঙ্গেই আছেন। তারা তাকে ছেড়ে যাননি। কর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক টুকরো হবে না। তিনি কোনো দিন কর্মীদের সঙ্গে বেইমানি করেননি।
এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির পদ থেকে তৈমুরকে সরিয়ে দিয়ে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয় বিএনপি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী, স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে তৈমূর আলম খন্দকারসহ সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
