মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণে আট বছর আগে হওয়া ডিমিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে বলেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে ডিমিউচুয়ালাইজেশন সম্পন্ন করতে পর্ষদ ও স্টক এক্সচেঞ্জের গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনা করতে কমপ্লায়েন্স অডিটর নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের নিরীক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। গত রবিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে এমন নির্দেশনা দিয়েছে এসইসি।
মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক ও স্বাধীন করার যে উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে ‘ডিমিউচুয়ালাইজড’ করা হয়েছিল, গত আট বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বেশি থাকলেও নানা ইস্যুতে এখনো ব্যবস্থাপনা বিভাগের ওপর মালিকানা বিভাগ থেকে খবরদারি চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিমিউচুয়ালাইজড পরবর্তী দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নে এসব বিষয় উঠে এসেছে। আইন অনুযায়ী ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমে ২০২০ সালের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) যে ১২টি লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল, তার একটিও অর্জন করতে পারেনি। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আট বছরেও কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পায়নি বলে এসইসির মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন বাস্তবায়নে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তা লিখিত আকারে জানাতে বলেছে এসইসি। একই সঙ্গে ডিপজিটরি রিসিপ্ট ইস্যুসহ ‘সেলফ লিস্টিং’ বা ‘ক্রস লিস্টিং’ করার বিষয়ে পরিকল্পনা ও খসড়া প্রবিধান আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে এসইসির দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জেস (বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) রেগুলেশন, ২০১৩ ও দি এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন, ২০১৩ অনুযায়ী বিশেষ নিরীক্ষা এবং চলমান প্রয়োজনীয়তার কার্যক্রম পরিপালন, কোড অব কনডাক্ট, কোড অব এথিকস ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কমপ্লায়েন্স অডিটর নিয়োগ দেবে। কমপ্লায়েন্স অডিটর একই সঙ্গে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের উদ্দেশ্য ও অর্জনে স্টক এক্সচেঞ্জের গৃহীত পদক্ষেপের তত্ত্বাবধান করবে।
নির্দেশনায় কোনো বিলম্ব ছাড়াই ডিএসইতে স্টক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস রেগুলেশনস জমা দিতে বলেছে এসইসি। এছাড়া ডিমিউচুয়ালাইজেশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা অনুসারে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করতে সময়সীমা নির্ধারণ করতে বলেছে। সরকারি সিকিউরিটিজসহ ইল্ড বেজড বন্ড মার্কেট চালু করতে স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিমিউচুয়ালাইজেশন নিয়ে এসইসির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে- বাণিজ্যিক লক্ষ্য হিসেবে ডিএসইর ঘোষণায় ছিল, আট বছরের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ টাকার অঙ্কে আড়াই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে। আদতে যা হয়নি। কথা ছিল, এ সময়ের মধ্যে শেয়ারবাজারে মোট বিনিয়োগের চার ভাগের তিনভাগই আসবে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের থেকে। বিদেশি বিনিয়োগ বাজার মূলধনের অন্তত ৩০ শতাংশে উন্নীত হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা অন্তত দ্বিগুণে উন্নীত হবে। বাজারের গভীরতা বাড়াতে শেয়ারের পাশাপাশি সরকারি বন্ড, করপোরেট বন্ড, ইনডেক্স ফিউচারস, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড, সুকুক এবং ডিরাইভেটিভের মতো বিনিয়োগ পণ্যের প্রচলন করা হবে। বাণিজ্যিক এ লক্ষ্যমাত্রার কোনোটিই পূরণ করতে পারেনি ডিএসই।
