মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির ৮ জনই হাইকোর্টে খালাস

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ০২:০৬ এএম

সাড়ে ১৪ বছরের বেশি সময় আগে নোয়াখালীতে দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির ৮ জনকে খালাস দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে অন্য চারজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুদন্ড বহাল এবং এক আসামির মৃত্যুদন্ডের সাজা রদ করে ১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি), জেল আপিল ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণের বরাতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, এ মামলার বিচারে সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে বিচার বিশ্লেষণ না করেই সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত এ রায় দিয়েছিল বলে উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

মৃত্যুদন্ড থেকে খালাস পাওয়া ৮ জন হলেন মোফাজ্জেল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, সামছুদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, জাফর হোসেন, আলী আকবর, নাসির উদ্দিন ও আবু ইউছুফ। হাইকোর্টে যে তিনজনের মৃত্যুদন্ড বহাল রয়েছে তারা হলেন কামরুল হাসান প্রকাশ ওরফে সোহাগ, রাশেদ ড্রাইভার ও কামাল হোসেন প্রকাশ। এ তিনজন এখনো পলাতক। এ ছাড়া আবদুস সবুর নামের আরেক আসামির মৃত্যুদন্ড রদ করে দেওয়া হয় ১০ বছর কারাদন্ড।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন, হেলাল উদ্দিন মোল্লা, আজাহার উল্লাহ ভুঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা। তিনি বলেন, বিচারিক আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে বিচার বিশ্লেষণ ছাড়াই রায় দেওয়ায় উচ্চ আদালতে এসে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ৮ জনই খালাস পেয়ে গেছেন।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে নোয়াখালী সদরের ফিরোজ কবির, সামছুল কবির নামে দুই ভাই এবং তাদের দোকানের কর্মচারী সুমন পাল ডাকাতের কবলে পড়েন। এ সময় ডাকাতরা তিনজনকে ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, প্রি-পেইড কার্ডসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফিরোজ কবির ও সুমন পাল নিহত হন।

এ ঘটনায় করা মামলার বিচার শেষে ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ ১২ আসামিকে মৃত্যুদন্ড ও ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেয় নোয়াখালীর দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। পরে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা আসামিরাও আপিল করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত