সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট এলাকার সীমান্তবর্তী সড়কটি পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যাওয়ায় চার মাসেও সংস্কার করা হয়নি। ফলে ওই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে এলাকার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সীমান্তের মেঘালয় পাহাড় লাগোয়া এ সড়কটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। টেকেরঘাট এলাকার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্কস্টেশনে উপজেলা ও জেলা শহর থেকে লোকজন যাতায়াত করেন ওই সড়ক হয়ে। কিন্তু সড়কের চানপুর, রজনীলাইন এলাকায় পাহাড়ি ঢলে বেশ কিছু অংশ ভেঙে নালার মতো হয়ে গেছে। ফলে সড়কের এক অংশে যানবাহান চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানুষ উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াত করেন এই সড়ক ধরে। আবার ওই সড়ক হয়েই শুল্কস্টেশনে যাতায়াত করেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে প্রায় লাখো মানুষের চলাচলের পথ এটি। গত ১৫ আগস্ট অতিবৃষ্টির কারণে মেঘালয় পাহাড় থেকে ব্যাপক পরিমাণে পাহাড়ি ঢল নামে। ঢলের পানির তোড়ে সড়কের চানপুর ও রজনীলাইন এলাকার অনন্ত ৭০০ মিটার অংশ ভেঙে গর্ত হয়ে যায়। এ কারণে সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এই অংশটুকু যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মানুষজন সড়কের পাশের জমি দিয়ে চলাচল করছেন। ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে দ্রুত সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো কাজ হয়নি।
সরেজমিনে সড়কের চানপুর অংশে দেখা গেছে, রাস্তার মাটি সরে গিয়ে পুরো নালার মতো তৈরি হয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন (৫২) বলেন, ‘১০ বছর ধরে প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল নামলে এলাকায় সড়ক, বাড়িঘর, ফসলি জমির ক্ষতি হয়। কিন্তু এবার ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সড়ক ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। এতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
একই গ্রামের আবু হানিফ (৪২) বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙেছে। সরকারের লোকজন বলেছিল সাহায্য করবে। আমরা কোনো কিছু পাইনি, এমনকি সড়কটি পর্যন্ত এখনো ঠিক হয়নি। মানুষ কষ্ট করে চলাফেরা করছে।’
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলার পুরো সীমান্ত এলাকার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। আমরা বিষয়টি দেখে এসেছি। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলেছি। তারা জানিয়েছেন, এখানে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কাজ হবে।’
এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ সড়কটি “হাওর এলাকার উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে’ যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমেই মূল কাজ হবে। তবে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে। এর আগে সড়কের ভাঙা অংশটি মানুষের চলাচলের উপযোগী করতে কিছু সংস্কারকাজ করার পরিকল্পনা আছে।’
