নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বঙ্গভবনে যে সংলাপ করছেন তাতে অংশ নেবে না জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। গতকাল শুক্রবার উত্তরায় নিজ বাসভবনে রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ, দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় করণীয় বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব।
আবদুর রব বলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি, সরকার, ইসি সকলেই সংবিধান লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। যারা সংবিধান লঙ্ঘনকারী তাদের অবশ্যই জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়া উচিত। কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু এই কমিশন চরম পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তারা দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্নকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে এবং সমগ্র জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে সুশাসন ও গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে নিপতিত হতে যাচ্ছে। কারণ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতিমধ্যে র্যাবসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ৬০০ নাগরিক গুম হওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।’
আ স ম রব বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের উত্থাপিত গুম সংক্রান্ত প্রশ্নকে উপেক্ষা করার কুফল, সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং পরিণতি যথাযথ বিবেচনায় না নিলে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বড় ধরনের হুমকিতে পড়বে, যা সমগ্র জাতির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু পূর্ব থেকেই আমরা সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলাম। কিন্তু সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে রাষ্ট্রকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।’
এ সময় দলের অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, তৌহিদ হোসেন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন বেলাল, শামসুল আলম, ফারজানা দিবা, মোহাম্মদ শফিক, গোলাম মোস্তফা আফসার উদ্দিন প্রমুখ।
