পুলিশের দাবি করা এক লাখ টাকা না দেওয়ায় হিমাংশু বর্মণকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা বিশ্বেশ্বর বর্মণ। গতকাল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা মালদাপাড়ার বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, টাকা না দিলে ‘স্ত্রী হত্যা’র অভিযোগে পুলিশ তার ছেলেকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছিল। যদিও পুলিশের দাবি, স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে আটক হওয়া হিমাংশু থানার একটি কক্ষে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার সকালে হিমাংশুর শোবার ঘর থেকে তার স্ত্রী সবিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে হিমাংশু ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বিকেলে হিমাংশুর মৃত্যুর সংবাদ পান তারা। পুলিশের ভাষ্য, গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হিমাংশু।
তবে বিশ্বেশ্বর বর্মণের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুরে ছেলেকে থানায় দেখতে গেলে পুলিশ তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে পারলে ছেলে ও নাতনি পিংকীকে ছেড়ে দেওয়া হবে; নতুবা তাদের জেলে পাঠানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি জানান, থানা থেকে ফেরার আগে ওই দিন বেলা দেড়টার দিকে হিমাংশুর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয় তার। তখন হিমাংশু জানায়, পুলিশ তার কাছেও এক লাখ টাকা দাবি করেছে। টাকা না দিলে তাকে ও তার মেয়েকে জেলে পাঠিয়ে দেবে বলেছে।
গতকাল শনিবার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হিমাংশুর স্ত্রী সাবিত্রী রানী ওরফে সবিতা রানী নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন বলে জানতে পারেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে তারা ছুটে এসে হিমাংশুকে তার স্ত্রীর মরদেহের পাশে দেখতে পান। পরে হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম ওই লাশসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হিমাংশু ও তার বড় মেয়ে পিংকীকে থানায় নিয়ে আসেন। বিকেলে তারা হিমাংশুর মৃত্যুর খবর পান। তাদের দাবি, পুলিশি নির্যাতনেই হিমাংশু মারা গেছেন। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই সত্য প্রকাশ পাবে।
তবে হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম টাকা চাওয়ার বিষয়টা ভিত্তিহীন দাবি করেন। তিনি বলেন, হিমাংশু থানার কক্ষে থাকা ওয়াই-ফাইয়ের তার গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হিরণ¥য় বর্মণ জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে পুলিশ হিমাংশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার গলায় একটি দাগ ছিল।
এ নিয়ে গত শনিবার দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার শেষের পাতায় ‘স্ত্রী হত্যার অভিযোগে আটক ব্যক্তির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
