গারো দুই কিশোরী ধর্ষণ প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ০১:২৭ এএম

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গারো দুই কিশোরী ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি রিয়াদসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এরমধ্যে রিয়াদকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হান্নানুল ইসলাম।

বাকি ৫ আসামিকে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে  গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতে  সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলো মামলার প্রধান আসামি গাজীরভিটা ইউনিয়নের সোলায়মান হোসেন রিয়াদ (২২), কাতলমারি গ্রামের শরীফ মিয়া (২০), কাটাবাড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান (২২), একই গ্রামের আব্দুল হামিদ (১৯), কচুয়াকুড়া গ্রামের মিয়া হোসেন (২০) একই গ্রামের মফিজুল মিয়ার ছেলে রুকন মিয়া (২১)।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রিয়াদ এলাকায় ১০ থেকে ১৩ জনের একটি বখাটে দলের নেতৃত্ব দিত। সে এবং তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকার স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা অতিষ্ঠ। রিয়াদের নামে হালুয়াঘাট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মাদক চোরাচালান মামলাও চলমান রয়েছে। এর আগে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার সহযোগী এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় মাদক কারবারি এবং গ্রুপভিত্তিক বিভিন্ন চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ওই দুই গারো কিশোরী তাদের সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। অনুষ্ঠানে রিয়াদসহ আরও তার ৯ সহযোগী অংশগ্রহণ করে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে দুই কিশোরী বাড়ি ফেরার সময় রিয়াদ ও তার সহযোগীরা তাদের অনুসরণ করতে থাকে। রাত প্রায় দুইটার দিকে রিয়াদ ও তার সহযোগীরা দুই কিশোরীর পথরোধ করে। পরে সহযোগীদের পাহারায় রিয়াদ ও তার ৬ সহযোগী মিলে তাদের গণধর্ষণ করে। 

গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের একটি গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় দুই স্কুলছাত্রী। পরে ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ নির্যাতিতদের বাড়িতে গিয়ে থানায় মামলা করতে পরামর্শ দেয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই ঘটনার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে আদিবাসীদের বিভিন্ন সংগঠন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত