রাজধানীর গুলিস্তানে মেঘলা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসচাপায় শেখ ফরিদ (২৮) ও বাদশা মিয়া (৩২) নামে দুই পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন আল আমিন (২৫), ওমর শরীফ (৪৫), ইলিয়াস (৪০) সুজিত দেবনাথ (৪৩) ও নুরুল আমিন (৫৫)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাসের চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মেঘলা পরিবহনের দ্রুতগামী একটি বাস পথচারীদের দেখেও গতি কমায়নি। তাদের চাপা দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে দুজন পথচারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ডিএমপির ওয়ারী থানার ওসি কবির হোসেন হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভারের ব্রিজের পকেট গেটে মেঘলা পরিবহনের একটি বাস পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। আর আহত হয়েছে কয়েকজন।
এদিকে গতকাল রাত ১০টার দিকে বাসটির চালক রাকিবকে রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এসপি আ ন ম ইমরান খান।
ওয়ারী থানার ডিউটি অফিসার এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, নিহত বাদশা মিয়া ফেরি করে মাছ বিক্রি করতেন, থাকতেন যাত্রাবাড়ী। সেখান থেকে মাছ ডেলিভারি নিতে গুলিস্তানে যাচ্ছিলেন। নিহত শেখ ফরিদও ফেরি করে মাছ বিক্রি করতেন। থাকতেন ফতুল্লার কুতুবপুরে। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে।
আহত আল আমিন জানান, তার বাসা শনির আখড়ায়। বিআরটিসির বাসে করে সকালে গুলিস্তান মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ব্রিজের পকেট গেটে নামেন। এরপর এক পাশ দিয়ে হেঁটে কিছুদূর যাওয়ার পরই পেছন থেকে মেঘলা পরিবহনের একটি বাস তাদের ধাক্কা দেয়।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া সেল) মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, ‘গুলিস্তানে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে আমরা দুজনের মরদেহ ও তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। মরদেহ দুটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত তিনজনকে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’
