কাপ্তানবাজারে আগুনে পুড়ে যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪৯ এএম

রাজধানীর গুলিস্তানের কাপ্তানবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ইয়াসিন (২০) নামে এক দোকান কর্মচারীর মৃত্যু ও অন্তত ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার ভোরে খবর পেয়ে ১২টি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক বজলুর রশীদ।

তিনি জানান, মার্কেটের ভেতরে কাঁচাবাজারে আগুন লাগে। গাড়ি নেওয়ার মতো রাস্তা না পেয়ে মূল সড়ক থেকে, পরে উত্তর পাশে মসজিদ ও দক্ষিণ পাশে আবাসিক ভবনের দেয়াল ভেঙে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানো হয়। শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত কি না এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরে চিৎকারের শব্দে ঘুম ভেঙে তারা আগুন টের পান। তাদের সব মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মামুন জানান, চিৎকারের শব্দে জেগে উত্তর কর্নারের মুসলিম স্টোরে আগুন দেখতে পান তিনি। পরক্ষণেই তা পাশের আবুল হোসেন চাকলাদার স্টোরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে নগদ ৩০ হাজারসহ প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে মামুনের।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভূঁইয়া স্টোরের দোতলা থেকে ইয়াসিনের লাশ উদ্ধার করে দমকলকর্মীরা। ভূঁইয়া স্টোরের মালিকের ভাগ্নে রুবায়েত হোসেন জনি জানান, আট হাজার টাকা বেতনে মাসখানেক আগে মুদি দোকানে চাকরি নেন ইয়াসিন। অগ্নিকাণ্ডের সময় দোতলায় চার কর্মীর তিনজন বের হতে পারলেও ইয়াসিন আটকা পড়েন।

ভূঁইয়া স্টোরের বিপরীতে বাপ্পী স্টোরে চাকরি করেন ইয়াসিনের চাচা মিজান। তিনিই ভাতিজাকে চাকরিতে আনেন। লাশ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন মিজান। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে স্বজনরাও ছুটে আসেন। পরে আবেদন করে ময়নাদতন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে গ্রামে যান তারা।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে কাপ্তানবাজারের ঠিক মাঝখানে বৃত্তাকার অংশে কাঁচাবাজারের সব দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুদি দোকানের চাল-ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। খাঁচায় থাকা মুরগি পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে পুড়ে যাওয়া মালামাল থেকে যতটুকু সম্ভব ভালো পণ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচাবাজারে বিদ্যুতের একটি তার দিয়ে অনেকগুলো সংযোগ নেওয়া। আগে থেকেই তারা আগুনের ঝুঁকিতে ছিলেন। তাদের ধারণা, মুসলিম স্টোর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অনেকের ২০-২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

মুসলিম স্টোরের মালিক হাজি শরীফ হোসেন রমজান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় দোকানে ছিলাম না। খবর পেয়ে এসে শুনেছি, আমার দোকান থেকে আগুন লেগেছে। হতেও পারে। আগুনে তো আমারও সব পুড়ে গেছে।

কাপ্তানবাজার মার্কেট সমিতির সদস্য সচিব হুমায়ুন মিয়া বলেন, আগুনে অন্তত ৭০টি দোকান পুড়ে গেছে। বাজারে গ্যাস ছিল না, রান্নাও হতো না। শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা। বাজারের সব ব্যবসায়ী মিটারের মাধ্যমে বৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত