ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী বিনোদবিহারী চৌধুরী। তিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তার জন্ম। আইনজীবী বাবার সংস্পর্শে তার বিপ্লবী চেতনার উন্মেষ ঘটে। রাঙ্গামাটি বোর্ড স্কুলে তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। পরে করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়, বোয়ালখালীর পিসি সেন সারোয়ারতলী উচ্চ বিদ্যালয়, চিটাগাং কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ব্রিটিশদের জেলে বন্দি অবস্থায়তেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে আইএ ও বিএ পাস করেন। পেশাগত জীবনে পত্রিকার সহকারী সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন ও চট্টগ্রাম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অনুশীলন শুরু করে শেষে তিনি শিক্ষকতায় থিতু হন। ১৯৩০ সালে সূর্য সেনের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানে তিনি ছিলেন অন্যতম সহযোগী। চট্টগ্রামকে তিন দিন স্বাধীন রাখা, টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস করা, অক্সিলারি ফোর্সের অস্ত্রশস্ত্র লুট সব কিছুতেই তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ব্রিটিশ বাহিনী পাল্টা আঘাত হানলে তিনি ও তার দল বীরবিক্রমে জালালাবাদ পাহাড়ে যুদ্ধ চালান। সেই যুদ্ধে তিনি ১২জন সহযোদ্ধার মৃত্যু দেখেন। ১৯৩৩ সালের জুন মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর পর মুক্ত হলেও এক বছর নজরবন্দি থাকতে হয়। ১৯৪১ সালের মে মাসে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের শুরুতে আবারও গ্রেপ্তার হন। ১৯৪৫ সালে ছাড়া পান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি অ্যাসেম্বলিতে গিয়ে পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের কথা বিশ্ববাসীর কাছে প্রচার করেন। ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে তিনি তরুণ যোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। ২০১১ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান। প্রামাণ্যচিত্র ‘সূর্যসাথী’ তার বিপ্লবী জীবন নিয়ে নির্মিত। ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
×
