অনেক সময় পায়ের তলায় বিশেষ করে হিল বা গোড়ালিতে খোঁচা দেওয়ার মতো ব্যথা অনুভূত হয়। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে উঠে পা ফেললে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
কারণ
পায়ের সামনের দিকে কিছু ছোট হাড় পেছনের দিকে গোড়ালি বা হিলের একটি হাড় এবং মাঝে কিছু হাড় নিয়ে গঠিত। এই হাড়গুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে লিগামেন্টস। সামনের ও পেছনের হারের সঙ্গে একটি ব্যান্ডের মতো জিনিস দিয়ে সংযুক্ত থাকে।
আমাদের শরীরের ওজন যেন সরাসরি পায়ের হাড়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে না পারে এজন্য এই ব্যান্ডটি আমাদের শক এবজরবারের মতো কাজ করে। এই ব্যান্ডে যদি কোনো ইনফ্লামেশন হয় তাহলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা অনুভূত হয়। ওজন বেশি হলে বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো চাপ থাকলে এই ব্যান্ড বা ফাসাতে ছোট্ট টিয়ার বা ইনজুরি হয়। প্রথমদিকে ব্যথা কম থাকায় এটি অনুভূত কম হয় এবং হাঁটাহাঁটি অব্যাহত থাকে। শুরুর ব্যথা আমলে না নিলে ইনজুরি গভীর হয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় পরিণত হয়।
কাদের হতে পারে
৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীর মধ্যে গোড়ালি ব্যথার প্রবণতা বেশি। দীর্ঘ সময় দৌড়ালে বা নৃত্যশিল্পীদের গোড়ালিতে চাপ বেশি হয়।
পায়ের গঠনগত সমস্যা : যাদের পা সমান বা আর্চ থাকে না বা ফ্ল্যাট ফুট সমস্যা। আবার যাদের উঁচু আর্চ থাকে তাদের ক্ষেত্রে হিলে বা গোড়ালিতে চাপ বেশি পড়ে। যে কারণে তাদের এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।
ওজন বেশি হলে। দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করলেও এটা হতে পারে। পুরুষদের থেকে নারীদের এই ব্যথার প্রবণতা বেশি থাকে। গর্ভবতী নারীদের শেষের দিকে প্ল্যান্টার ফাসাইটিস হতে পারে। যারা আর্থ্রাইটিস বা এনকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসে ভুগছেন তাদের এ সমস্যা হতে পারে। যারা দীর্ঘদিন শক্ত হিলের জুতা ব্যবহার করেন তাদেরও হতে পারে।
করণীয়
বিশ্রাম দিতে হবে পাকে। পাকে উঁচু টুলের ওপর রাখার চেষ্টা করতে হবে।
ব্যথার জায়গায় বরফ দিতে হবে ২০ মিনিট ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর।
ওজন কমিয়ে রাখা।
আরামদায়ক নরম জুতা ব্যবহার। প্রয়োজনে জুতার ভেতরে ইনসোল বা হিলপ্যাড ব্যবহার করতে হবে।
নিয়মিত আরামদায়ক স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। পায়ের ওপর চাপ পড়ে না এমন এক্সারসাইজ যেমন : সাঁতার কাটা যেতে পারে।
চিকিৎসা
প্রাথমিক চিকিৎসা : RICE । অর্থাৎ R-Rest I – Ice pack C-Compression
E-Elevation : ব্যথা বেশি মনে হলে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
চিকিৎসকের চিকিৎসা : যেসব প্ল্যান্টার ফাসাইটিসের ব্যথা প্রাথমিক চিকিৎসায় করা যায় না, এ ক্ষেত্রে ট্রিগার পয়েন্ট ইনজেকশনের মাধ্যমে স্টেরয়েড প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে ব্যথা কমানো যায়। ফিজিওথেরাপি যেমন আলট্রাসাউন্ড, ESW থেরাপি ও মাসাজ দেওয়া। তবে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পায়ে রক্ত চলাচল বাড়ে। লিগামেন্ট ও ফাসাগুলো নিউট্রিশন পায়। নিয়মিত সপ্তাহখানিক ফিজিওথেরাপি করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্ল্যান্টার ফাসাইটিসের ক্ষেত্রে পিআরপি খুবই ভালো কাজ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত নিয়ে মেশিনে দিয়ে রক্তকণিকা আলাদা করে এই পিআরপি তৈরি করা হয়। এই পিআরপিতে প্রচুর পরিমাণে গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতপূরণে সহায়তা করে। এটি একটি স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি।
