ডিআইএফই’র লাইসেন্স ছাড়া কর্মী সরবরাহ নয়

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৩৯ এএম

সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থায় আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় জনবল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। যেকোনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহ করলে নিতে হবে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) লাইসেন্স। একবার লাইসেন্স নেওয়ার পর তা প্রতি বছর নবায়নও করতে হবে। এ নিয়ম না মানলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে জনবল নেবে না সংশ্লিষ্ট  প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া সরবরাহ করা কর্মীকেও দিতে হবে তাদের উপযুক্ত অর্থ। এসব বিষয় নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীসহ সব জেলা পরিষদের নির্বাহীদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন প্রকল্পগুলোতে আর চুক্তিভিক্তিক লোক নিয়োগ করা হচ্ছে না। কারণ কোনো প্রকল্পে চুক্তিভিক্তিক লোক নিয়োগ করা হলে প্রকল্পের লোকজন আদালতের মাধ্যমে চাকরি রাজস্ব খাতে একীভূত করার চেষ্টা করে। এতে সরকারের জনবল কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থা জটিলতায় পড়ে। তাই এখন থেকে প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ে লোক নেওয়া হবে। আর এ বিশাল কর্মী সরবরাহে সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে চলতে আমরা ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-২) এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত ৬ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্সের আওতাভুক্ত করতে এবং যারা ইতিমধ্যে লাইসেন্স গ্রহণ করেছে তাদের লাইসেন্সগুলো হালনাগাদ না করলে তাদের কাজ না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে জনবল সরবরাহ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই একটি ট্রেড লাইসেন্স করে কর্মী সরবরাহ করে থাকে। কিছু প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লাইসেন্স নিলেও বেশিরভাগই তা নবায়ন করে না। ফলে আউটসোর্সিং খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। এ অবস্থায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান একটি ডিও লেটার বা আধাসরকারি পত্র দেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ পত্র পেয়ে মন্ত্রণালয়ের সব সংস্থাকে তা অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, ‘জনবল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর (আউটসোর্সিং) বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫-এর বিধি-৭ মোতাবেক কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। ২০১৫ সালে এ বিধিমালা প্রণয়নের পর থেকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ঠিকাদার সংস্থার নামে লাইসেন্স গ্রহণ করেছে। তবে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান ঠিকাদার সংস্থার নামে ডিআইএফই থেকে লাইসেন্স গ্রহণ না করে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে জনবল সরবরাহ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান ডিআইএফই থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করেছে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নবায়ন করছে না। উপরন্তু কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দু-তিন বছর পরে নবায়নের আবেদন করলেও ত্রুটিপূর্ণ তথ্য দেয়। অত্যন্ত স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ করে, যা প্রকৃত তথ্য নয়।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘শ্রম বিধিমালার ১৭ (১) ধারা মোতাবেক প্রত্যেক ঠিকাদার সংস্থাকে লাইসেন্স প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে ওই সংস্থার নাম সংবলিত ‘কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল’ নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে একটি ব্যাংক হিসাব শুরু করতে হবে। বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ১৭ (২) মোতাবেক ব্যাংক হিসাবে ঠিকাদার সংস্থায় নিয়োগ করা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা প্রত্যেক কর্মীর বিপরীতে অর্থ জমা রাখতে হবে। ওই কর্মীর প্রতি এক বছরের চাকরির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য এক মাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ অর্থ বা ধারা ২ (১০) অনুসারে গ্র্যাচুইটি (যদি প্রযোজ্য হয়) হিসাবে জমা রাখতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন না করার মূল কারণ হলো ‘কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে’ টাকা জমাদান না করা, যা চাকরি থেকে যেকোনো ধরনের অবসানে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধের অংশ হিসেবে কর্মীকে সরাসরি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।’

চিঠিতে বলা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে প্রকৃতপক্ষে কতজন জনবল সরবরাহ করেছে তা নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। লাইসেন্স নবায়নের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দাখিল করা কাগজপত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা শ্রমিকের সঠিক সংখ্যা দিচ্ছে না। বিভিন্ন সেবাগ্রহীতা সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদাররা যে তথ্য দিচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তাদের সরবরাহ করা শ্রমিকের সংখ্যা আরও বেশি। ফলে শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। অনেক লাইসেন্স গ্রহণকারী সংস্থা নবায়ন ছাড়াই বিভিন্ন কাজ করতে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত