বগুড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ নেতা নাজমুল হাসান অরেঞ্জ (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত সোমবার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
অরেঞ্জ শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। গত ২ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে শহরের মালগ্রাম এলাকায় সংগঠনের দুইপক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। মিনহাজ হোসেন আপেল (২৪) নামে সংগঠনের এক কর্মীও গুলিবিদ্ধ হন।
এলাকাবাসী জানায়, মালগ্রাম এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েক দিন ধরে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অস্ত্রের মহড়া চলছিল। এর জের ধরেই ওইদিন গোলাগুলি হয়। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ জানুয়ারি অরেঞ্জের স্ত্রী স্বর্ণালী আক্তার বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন।
অরেঞ্জ মারা যাওয়ার খবর জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিেেয়ছে। এ কারণে মালগ্রাম ডাবতলা ও মালগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার রাত থেকে ওই এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে অরেঞ্জের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল সকালে রাজধানীর বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘শুটার’ রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন র্যাব-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীনা রানী দাস। তিনি বলেন, ঘটনার পর রাসেল বনানী এসে আত্মগোপন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাসেল হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে।
এর আগে এজাহারভুক্ত আসামি খায়রুল ও টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বগুড়া সদর থানার ওসি।
