আসছে কুমার বিশ্বজিতের আত্মজীবনী

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫৪ পিএম

গানের জগতের চিরসবুজ নাম কুমার বিশ্বজিৎ। শুধু চলন-বলন কিংবা বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে নয়, মননেও তিনি চিরসবুজ। তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্যই হলো, প্রতিনিয়ত নতুন কিছু তৈরি করা। তাইতো নিয়মিত কাজ করেন তরুণ প্রজন্মের শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে। বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের অধিকারী এই শিল্পীর অনেক অজানা অধ্যায় এবার মলাটবন্দি হলো। এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশ হবে তার আত্মজীবনী। তবে বইটি তিনি নিজে লেখেননি। কাজটি করেছেন তরুণ প্রজন্মের মেধাবী গায়ক, গীতিকার ও কম্পোজার জয় শাহরিয়ার। ১৫ জানুয়ারি বইটির নাম ঘোষণা করে এর প্রি-অর্ডার কার্যক্রম শুরু হবে। এরইমধ্যে কুমার বিশ^জিতের আত্মজীবনীর খবর পেয়ে ভক্ত-অনুরাগীরা দারুণ আগ্রহ প্রকাশ করছে। কী আছে এই বইয়ে? কেনই বা আত্মজীবনী প্রকাশের ব্যাপারে আগ্রহী হলেন শিল্পী? নিজে না লিখে অন্যকে কেন এই গুরুদায়িত্ব দিলেন? এমন অসংখ্য প্রশ্ন তাদের মনে দানা বেঁধেছে। বিষয়গুলো দেশ রূপান্তরকে পরিষ্কার করলেন কিংবদন্তীতুল্য এই গায়ক। কুমার বিশ^জিৎ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আত্মজীবনী প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে সত্যি অনেক ভাগ্যবান মনে করছি। কারণ আমার সিনিয়র অনেক বিখ্যাত শিল্পী আছেন, যাদের সম্পর্কে জানার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। নতুন প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে তথ্যের অভাবে হয়তো তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করতে ভুল করবে। এ বিষয়টিই আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। আমি অন্তত জীবদ্দশায় কিছু একটা দেখে যেতে পারলাম।’

বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি বলেন, ‘বইটিতে মূলত আমার সংগীতজীবনকেই ফোকাস করা হয়েছে। এমন অনেক কথা, ঘটনা বা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তেমন কেউ জানেই না। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেও তার মাধ্যমে সংগীতের একটা লম্বা সময়ের চিত্র পরিষ্কারভাবে ধরা পড়বে পাঠকের কাছে। তারা জানতে পারবে আমাদের প্রজন্ম কিংবা তার আগের প্রজন্ম কী ধরনের স্ট্রাগল করে গান করেছি। সে ধরনের স্ট্রাগল হয়তো কল্পনাই করতে পারবে না এখনকার শিল্পী-দর্শকরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে লোকাল বাসে চড়ে গান গাইতে গেছি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। একটা ড্রামসেট পর্যন্ত পেতাম না। সাউন্ড সিস্টেম বলে যে একটা বিষয় আছে, তা অনেকে জানতই না। মোটকথা, আশির দশক থেকে আমার ক্যারিয়ারের আজকের দিন পর্যন্ত একটা আউটলাইন টেনেছি। আশা করছি পাঠকের ভালো লাগবে আমার এই জার্নি পড়ে।’

জয় শাহরিয়ারকে দিয়ে কাজটি করিয়েছেন কেন? এ প্রসঙ্গে কুমার বিশ^জিৎ বলেন, ‘অগাধ আস্থা না থাকলে সম্ভব নত না। এমন নয় যে এবারই প্রথম আত্মজীবনীর প্রস্তাব পেয়েছি। এর আগে নানা জায়গা থেকে আমাকে নিয়ে লেখার আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু মন সাড়া দেয়নি। কিন্তু জয়ের ব্যাপারে তা হয়েছে। আমি তার লেখা গানগুলো খুব পছন্দ করি। তার সুর-সংগীতে গানও গেয়েছি। তাছাড়া সে আমাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করে। সব মিলিয়ে এমন একজন মেধাবী মানুষ কাজটি করেছে ভেবে ভালো লাগছে। সে না হলে হয়তো এত দ্রুত বইটি মানুষের কাছে পৌঁছাতই না। অনেক বেশি ধৈর্য আর আগ্রহের পরিচয় দিয়েছে সে। আমি জানি সে খুব ভালো করেই আমার মনের কথাগুলো তুলে ধরতে পেরেছে।’  

কুমার বিশ্বজিৎ যে আস্থা নিয়ে আপনাকে দায়িত্বটি দিয়েছেন, তা কতখানি সফল হয়েছে বলে মনে করেন? জানতে চাইলে বইয়ের লেখক জয় শাহরিয়ার বলেন, ‘সেটা তো পাঠক বলতে পারবে। আমার চেষ্টা, ভালোবাসা ও আগ্রহের কোনো কমতি ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা সাংবাদিক ছিলেন। তাই ছোটবেলা থেকেই ভালো মানের লেখা পড়ে ও লেখালেখি করে কেটেছে। তাই বড় হয়ে আমি লেখালেখি করব এটাই স্বাভাবিক। বরং মিউজিশিয়ান হওয়াটা বেশ অস্বাভাবিক ছিল। এখন গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি করি। এরই মধ্যে আমার বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে।’

বইটি নিয়ে জয় আরও বলেন, ‘২০২১ সালের ৬ জুন থেকে বইটির কাজ শুরু করি। নানা সময়ে বিশ^দার কাছ থেকে জীবনের গল্প শুনেছি। এটা আমার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতাও। এমন ঘটনা শুনেছি যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। বইটিতে কুমার বিশ্বজিতের গানের জীবন প্রাধান্য পেলেও তার ছোটবেলা, কৈশোর, চট্টগ্রাম শহর, বেড়ে ওঠা এবং সফল গায়কের পাশাপাশি তিনি আরও যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন তা উঠে আসবে। বইটির অন্যতম আকর্ষণ হলো, বেশ কিছু দুর্লভ ছবি। যা বিশ্বদাই আমাকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত