সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, তাদের সবার পাসপোর্ট বাতিল করা হবে। বিদেশে বসে যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের তালিকাও প্রস্তুত করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পাসপোর্ট বাতিলে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাছাড়া সম্প্রতি র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে সরকার সঠিক তথ্য দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এসব কথা বলেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, বিদেশে থেকে অনেকেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এভাবে মিথ্যাচার করা রাষ্ট্রদ্রোহী। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশদ্রোহী ও দেশের স্বার্থবিরোধী কোনটা, সেটার সংজ্ঞা আইনে আছে। রাষ্ট্রের স্বার্থ পরিপন্থী কোনগুলো সংবিধান ও সিআরপিসিতে যা আছে সেটা মেনেই করা হবে। নতুনভাবে কোনো কিছু সংজ্ঞায়িত করা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসে যারা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম করছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। তাদের পাসপোর্ট যাতে বাতিল করা হয় সেজন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা করছে, কী কী করছে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যারা সক্রিয়ভাবে, অব্যাহতভাবে এসব কাজ করে যাচ্ছে, তাদের পাসপোর্ট বাতিলের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হক বলেন, তারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। এজন্য দেশের আইনে তাদের বিচার করা যাচ্ছে না। এজন্য কীভাবে তাদের অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখা যায়, সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চালিয়ে যাবে, সেই নির্দেশনা তাদের দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরকার কাজ করছে। হয়তো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, যেকোনো সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে ডোপ টেস্ট করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগেও ডোপ টেস্ট করা হবে। ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার জন্য দ্রুত একটি আইনও করা হবে। বাংলাদেশে অবস্থানরত যেসব বিদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে। অবৈধ বসবাসকারীদের গ্রেপ্তার করে সেফ হোমে রাখা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হবে। কারণ এরা বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
