পুঁজিবাজারের প্রধান দুই সমস্যা জানালেন সালমান এফ রহমান

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৭ এএম

ইকুইটিভিত্তিক বাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর সংখ্যাধিক্য পুঁজিবাজারের দুটি বড় দুর্বলতা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। অবশ্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বে থাকা বর্তমান কমিশন এগুলো সমাধানের জন্য কাজ করছে। 

দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম শরিয়াহভিত্তিক সুকুক বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনার লেনদেন শুরু উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সালমান এফ রহমান এসব কথা বলেন, যিনি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যানও। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

সালমান এফ রহমান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ইকুইটি ও ডেট মার্কেটের অনুপাত সমান সমান। অনেক দেশে ডেট মার্কেটের আকার ইকুইটির চেয়ে বেশি। কিন্তু আমাদের বাজারের একটি বড় দুর্বলতা হলো এটি শুধুমাত্র ইকুইটিভিত্তিক বাজার। অর্থাৎ এখানে শুধু  শেয়ার কেনাবেচা হয়, তাই আমাদের দেশে ডেট মার্কেটের আকার বাড়াতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ডেট সিকিউরিটিজ হিসেবে বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ডেট সিকিউরিটিজের মার্কেট আরও বড় হবে। আমরা আশা করি কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে পণ্য বৈচিত্র্যে পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। 

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের দ্বিতীয় বড় দুর্বলতা হলো আমাদের বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বেশি।  ম্যাচিউরড বাজারে প্রাতিষ্ঠানিকদের লেনদেনের পরিমাণ বেশি হয়। এমনকি সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ফান্ডের মাধ্যমে লেনদেন করেন। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক উল্টো। এ কারণে দেশের পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন হয় বেশি। ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে করপোরেট হতে হবে। এখনো আমাদের দেশে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে ব্রোকার মনে করা হয়। যে কারণে বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই পোর্টফোলিও ম্যানেজ করে। এটা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর করা কথা। কিন্তু এ জন্য  ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে সত্যিকারের ইনস্টিটিউট হতে হবে এবং তাদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে।

দেশের সুদহার প্রসঙ্গে সালমান বলেন, এফডিআরের সুদহার এখন ৬ শতাংশের নিচে। তবে আমাদের সুকুক বন্ড থেকে ৯ শতাংশ হারে  দেওয়া হবে। এ কারণে বন্ডটি নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু পাবলিকের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া পাইনি। তবে প্রাতিষ্ঠানিকদের অংশগ্রহণ ভালো ছিল। পাবলিকের সাড়া না পাওয়ার পেছনে সুকুক বন্ডটির বিষয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে না পারার কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান সালমান এফ রহমান। অথচ এফডিআরওয়ালাদের জন্য সুকুক বন্ডটি খুবই আকর্ষণীয়।

বিশেষ অতিথি এসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে এসে বাজারকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে এসইসি। বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের মাধ্যমে সেই চেষ্টা আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এভাবেই বাজার দীর্ঘমেয়াদের অর্থায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।

এসইসি চেয়ারম্যান বলেছেন, আগামীতে পুঁজিবাজারে আরও বহুমুখী সুযোগ তৈরি হবে, সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। তিনি বলেন, এখন এই ৩ হাজার কোটি টাকার জন্য যদি তারা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে যেতেন এবং এই লোড যদি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আসত তাহলে কী হতো? তাহলে একটা ব্যবসার জন্য যেভাবে অর্থায়ন করা দরকার, সেভাবে হতো না। এখন যেভাবে টাকা ওঠানো হলো সেটাই হলো সঠিক পন্থা। সবচেয়ে বড় কথা এর মধ্যে বাংলাদেশের জনসাধারণের সম্পৃক্ততা থাকল, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা থাকল এবং আজকে এই বন্ডের লেনদেন শুরু হলো। আরও ভালো যে এটা কনভার্টেবল বন্ড। সামনে কেউ চাইলে এটা শেয়ারে পরিণত হবে।

এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শুরু থেকেই পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়ানোর কথা বলে আসছি। বেক্সিমকো সুকুকের মাধ্যমে তার যাত্র শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশ কিছু পণ্য আসতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও সুকুক বন্ড ইস্যুর কাজ চলছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তুলনামূলকভাবে সব  সেক্টরের সূচকের উন্নয়ন হলেও আর্থিক খাতের আশানুরূপ উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়নি। বর্তমানে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে, যা কাম্য নয়। কিছু কিছু ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের তহবিল তছরুপ হচ্ছে। এ ধরনের সমস্যা যাতে ভবিষ্যতে তৈরি না হয় সেজন্য এসইসি ও ডিএসই কাজ করছে।

দেশের পুঁজিবাজারে শরিয়াভিত্তিক প্রথম বন্ড ‘বেক্সিমকো গ্রিন- সুকুক আল ইসতিসনা’র লেনদেন গতকাল সকাল ১০টা থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) শুরু হয়। ডিএসএতে লেনদেনের শুরুতে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের এ বন্ডের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ১১০ টাকায় লেনদেন হতে দেখা যায়। দিন শেষে বন্ডটি ১০১ টাকায় লেনদেন হয়। সব মিলিয়ে ৬ হাজার লেনদেনে হাত বদল হয় ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি ইউনিট, যার দাম প্রায় ৩৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে অষ্টম অবস্থানে ছিল  বেক্সিমকোর গ্রিন সুকুক বন্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত