গত ৮ জানুয়ারি কভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ইরানি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা, লেখক ও কবি বাকতাশ আবতিন। ভিন্নমত প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে ওঠার অভিযোগে ৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন তিনি। অসুস্থ অবস্থাতেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি তাকে। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
বাকতাশ আবতিন
১৯৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন ইরানি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা, লেখক ও কবি বাকতাশ আবতিন। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পরপরই কবিতার বই প্রকাশে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। কাব্য সাধনার পাশাপাশি তথ্যচিত্র নির্মাণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ‘বাকতাশ আবতিন’ তার সাহিত্যিক ছদ্মনাম। তার আসল নাম ছিল মেহেদি কাজেমি। ২০০৫ সালে তার প্রথম প্রামাণ্য চিত্র ‘দ্য সোলার এক্লিপস’ মুক্তি পায়। ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও সাহিত্য সমালোচনা নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করেন তিনি। ইরানের স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে লেখা ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। শিল্প-সাহিত্যচর্চায় রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। ইরানের রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মেম্বার হওয়ায় এ সংগঠনের ইতিহাস নিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দায়ে আরও দুই লেখকসহ ৬ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।
কারাবাসের এক পর্যায়ে কভিড-১৯ ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কারাগারের ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসাবঞ্চিত করা হয় তাকে। অসুস্থ অবস্থায় এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের কভিড সংক্রমণের কারণে কোয়ারেন্টাইনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় ২০২১ সালের অক্টোবরে পারিবারিক ডাক্তারের আবেদনে আবতিনকে মেডিকেল ফার্লো (সাময়িক কারাবিরতি) দেওয়া হয়। ডিসেম্বর মাসে আবারও কভিড-পরবর্তী জটিলতার কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে তালেঘানি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে কোমায় চলে যান তিনি। অবশেষে ৮ জানুয়ারি ৪৮ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২০২১ সালে আরও দুই লেখকের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে তিনি ফ্রিডম টু রাইট পুরস্কারে ভূষিত হন।
কারাগারে লেখকদের ভিড়
করোনা মহামারীর প্রাথমিক দিকে ২০১৯ সালে ইরানে বিশিষ্ট তিন লেখক রেজা খানদান মাহাবাদি, বাকতাশ আবতিন ও কায়ভান বাজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরানের এভিন কারাগারে স্থানান্তর করা হয় তাদের। এই তিনজন প্রত্যেকেই ইরানের সাহিত্য জগতের সদস্য। তাদের প্রত্যেকেরই একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তারা ইরান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচক। ২০১৪ সালে মাহাবাদি ও আবতিন ইরানি রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড সদস্য নির্বাচিত হন। আবতিন একজন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা এবং বিবিসি ফার্সি টিমের সঙ্গে কাজ করেছেন। শিল্প ও সাহিত্যের ওপরে রাষ্ট্র ইরানের সেন্সরশিপের বিরোধিতা করেছেন তারা। মূলত এই কারণেই রাষ্ট্র ইরান তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে মামলা করে।
মামলার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি। তাদের বিরুদ্ধে আনা গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে‘শাসকের বিরুদ্ধে প্রচারণা ছড়িয়ে দেওয়া’, ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও যোগসাজশ’ এবং ‘নারীদের দুর্নীতি ও গণিকাবৃত্তিতে উৎসাহিত করা’। আরেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল১৯৯৮ সালে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিহত রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সদস্য জাফর পোয়ান্দেহ ও মোহাম্মদ মোখতারির কবর পরিদর্শন করে সদস্যরা নিজেরা নিউজলেটার প্রকাশ করে।
২০১৫ সালে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লেখকদের ডেকে নেয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে শুনানির সময় বিচারক তাদের আইনি প্রতিনিধিত্বের অধিকার অস্বীকার করে বসেন। ফলে লেখকদের কেউই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। রাষ্ট্রীয় নীতির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাবলে শাসকদের চ্যালেঞ্জ করার কোনো অধিকার পান না নাগরিকদের কেউ। ফলে আদালত লেখকদের প্রত্যেককে ১০০ মিলিয়ন ইরানি টোম্যানের (২ লাখ ৪০ হাজার ডলার) বিনিময়ে জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ লেখকদের কেউই বহন করতে সক্ষম ছিলেন না। ফলে তাদের এভিন কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
লেখকদের তিনজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং রাষ্ট্রীয় এই নিপীড়নের তীব্র প্রতিবাদ করেন। ২০১৯ সালে তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আদালত আবতিন ও মাহাবাদির সাজা বহাল রাখে এবং বাজানের সাজা ৬ বছর থেকে কমে সাড়ে ৩ বছরে এসে ঠেকে।
বাকতাশ আবতিন ইরানের একটি ওয়েবসাইট ‘জার্নালিজম ইজ নট আ ক্রাইম’কে বলেন, ‘তারা মনে করে যে, অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের লেখালেখি ও চিন্তাভাবনাকে সেন্সরশিপের আওতায় এনে সীমাবদ্ধ ও দমন করার মধ্য দিয়ে এর কার্যকারিতা ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের প্রকৃতিকে এভাবে ধ্বংস করা যাবে না। আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু অন্যদের ভেতরে আমাদের বিদ্রোহী সত্তা জেগে উঠছে। আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের মূল প্রচেষ্টা সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে লড়াই ও চিন্তার সীমাবদ্ধতা ও স্বাধীনতার অধিকার উপলব্ধি করা।’
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন রাষ্ট্রীয় এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন আবতিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে। আমরা এমন এক দেশে বাস করি যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের কষ্ট ভোগ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
২০১৯ সালের মার্চ থেকে তাদের তিনজনকে বারবার আদালতে তলব করা হয়েছে। তখন ইরানে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। কারাগারে সংক্রমণের যথেষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাদের মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এদিকে ২০২০ সালের মার্চ মাসে ইরানের বিচার বিভাগ একটি বিবৃতি জারি করে যে, ইরানের জনবহুল কারাগারে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য নতুন কাউকে কারাগারে রাখা হবে না। সে সময় ইরানজুড়ে কভিড-১৯ তীব্রভাবে সংক্রামক হয়ে উঠেছে। মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রায় এক লাখ বন্দিকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবু রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য নতুন এই বিবৃতি কোনো কার্যকারিতা দেখাতে পারেনি। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মানবাধিকার আইনজীবী শিরিন এবাদি বলেছেন, (তৎকালীন বিচার বিভাগীয় প্রধান) ইব্রাহিম রইসি পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন।
রাষ্ট্র কেন প্রতিভাবানদের বিরুদ্ধে সরব? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় সাহসী আইনজীবী গিতি পৌরফাজেল ৭৮ বছর বয়সে সাজা ভোগ করছেন, লেখকরা জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন না অথচ প্রেসিডেন্টের ভাই হোসেইন ফেরেদুন বা মেহেদি হাশেমি আর্থিক অপরাধের দায়ে কারাদণ্ড দণ্ডিত হওয়ার পরও মহামারীর ছুতোয় তাদের সাময়িক মুক্তি (ফার্লো) দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে শিরিন এবাদি বলেন, ‘তথাকথিত ইসলামিক দয়া শাসকদের দোসরদের জন্য প্রসারিত, সাধারণ মানুষ এসবের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিশেষত যারা সরকারের ধ্বংসাত্মক নীতির সমালোচনা করে।’
শাসকের ক্ষোভের অনলে
ইরানের রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক লেখক সমিতির একাংশ নিয়ে গঠিত একটি এনজিও। ১৯৬৮ সালে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে এই এনজিও প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু আশির দশকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে সংগঠনটি। তখন থেকেই নিয়মিত বিরতিতে সদস্যদের মামলা ও কারাগারে পাঠানোসহ আরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা যেন রাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। সংগঠনের বেশকিছু মানুষকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। নব্বই দশকের শেষ দিকে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ফারাজ সারকোহি পরে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন।
১৯৯৪ সালে ইরানি সাহিত্য জগতের ১৩৪ জন সাহিত্যে সরকারি সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদলিপি দাখিল করেন। ১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতির কঠোর সমালোচকদের ২১ জনের এক দল সাহিত্যিককে খুনের পরিকল্পনা ফাঁস হয়। কিন্তু ভাগ্যের জোরে তাদের সবাই প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন। একই বছর সারকোহি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে ইরান থেকে জার্মানি পাড়ি দেওয়ার সময় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মীরা তাকে অপহরণ করে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্যাতন করে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে তিনি ইরান ত্যাগ করেন।
১৯৯৮ সালে ৪ ও ৯ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন অ্যাসোসিয়েশনের দুই সদস্য লেখক ও কবি মোহাম্মদ মোখতারি ও অনুবাদক মোহাম্মদ জাফর পোয়ান্দে। গোয়েন্দা বিভাগের সমর্থনে পরে তাদের হত্যা করা হয়। কিছুদিন পরে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রীয় তোষণে মৃতদেহের সৎকার করতে দেওয়া হয়নি। অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেকে নিজ উদ্যোগে প্রতিবছর তাদের সম্মানে শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষদের গোয়েন্দা বাহিনীর হয়রানির শিকার হতে হয়।
ইরানের সংবিধানে নাগরিক অধিকার
২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ইরানি রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের সদস্যরা তাদের তিন সদস্যকে কারাগারে প্রেরণ করায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। ভিন্নমতের প্রতি রাষ্ট্রীয় অসহিষ্ণুতার ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পদ্ধতিগতভাবে দমনের কঠোর সমালোচনা করা হয় সেখানে।
তথ্য ও মতপ্রকাশের অবাধ প্রবাহ রোধে ইরানের আদালত গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে নাগরিক অধিকার কর্মী, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের শনাক্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণার মাধ্যমে ক্রমাগত একটি দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।
যেভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতির আড়ালে বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে, সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ ছাড়াই অভিযুক্ত ব্যক্তি গোয়েন্দা-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের টার্গেট অনুযায়ী ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার’-এর অভিযোগে কারাবন্দি হতে পারে।
ইরানের নাগরিক অধিকার সনদের ২৮ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ ও বাক-স্বাধীনতাকে নাগরিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও ইরান সরকার মূলত বাক-স্বাধীনতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে। নাগরিক অধিকার সনদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে‘ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জন্য কাউকে টার্গেট করা উচিত নয়।’
সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘ব্যক্তির বিশ্বাসের তদন্ত নিষিদ্ধ এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাসে আস্থা রাখার জন্য কাউকে উত্ত্যক্ত করা বা কাঠগড়ায় তোলা যাবে না।’ ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, ‘মন্দকে (ভালো হওয়ার) আদেশ দেওয়া এবং মন্দকে নিষেধ করা’ ইসলামিক নীতিকে ‘একটি সার্বজনীন ও পারস্পরিক কর্তব্য’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে জনগণ ও সরকার পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণে অভ্যস্ত হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই জনগণকে সমালোচনা করার অধিকার দিতে হবে। এদিকে ২৪ অনুচ্ছেদ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। যদি সেই খবর ইসলামের মৌলিক নীতি বা জনগণের অধিকারের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে বিবেচিত না হয়।
সংবিধানে সুস্পষ্ট নীতিমালা সত্ত্বেও ইরান যেন এক পরস্পরবিরোধী চক্রে আটকে আছে। জনসাধারণকে ভিন্নমতের জন্য দণ্ডিত করা হয়, এমনকি ‘মতামত’ হয়ে যায় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
পশ্চিমা মিডিয়ার উদ্বেগ
বাকতাশের স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে পিইএন আমেরিকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি হোসেইনি খামেনির প্রতি একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে। সে চিঠিতে আবতিনের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসার দাবি জানানো হয়। সেখানে আরও অনুরোধ করা হয়, তার লেখা বা অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্য অন্যায়ভাবে আটক সকলকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেওয়ার হোক। এভিনসহ ইরানের অন্যান্য কারাগারে আটক রাজনৈতিক বন্দিদের যেন শাস্তির আওতামুক্ত করা হয়।
ইরানে আটক বন্দিদের মৃত্যুর ঘটনায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেখক ও অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে কভিড মহামারীতে ইরানের কারাগারে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরানের (এইচআরআই) নির্বাহী পরিচালক হাদি ঘাইমি আবতিনের মৃত্যুর বিষয়ে রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাকতাশ আবতিন মারা গেছেন, কারণ ইরান সরকার কারাগারে প্রেরণের মাধ্যমে তার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল।’ এই ট্র্যাজেডিকে প্রতিরোধযোগ্য বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ইরানের বিচার বিভাগীয় প্রধানকে (গোলাম হোসেইন মোহসেনি) অবশ্যই এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেপ্টেম্বর মাসে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, রাষ্ট্র ইরান ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা কমপক্ষে ৭২ জনের মৃত্যুর কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়েছে। অ্যামনেস্টি দাবি করে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নির্যাতন ও অন্যান্য দুর্ব্যবহারের প্রমাণ আছে তাদের কাছে।
