ইউটিউবে জনপ্রিয় একটি গানের মডেল হয়েই ধরা পড়লেন তিন খুনের এক আসামি, যিনি বাউল সেজে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তার সাজা হয়েছিল। এই ব্যক্তির নাম হেলাল হোসেন (৪৫)।
গত মঙ্গলবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল তার অতীত কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত জানিয়েছেন র্যাবকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বাউল বেশে ঘুরে বেড়ানো মো. হেলাল হোসেন নাম বদলে সেলিম ফকির ও বাউল সেলিম নামে পরিচয় দিতেন। তিনি একজন ‘সিরিয়াল কিলার’।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হেলালের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা ও একটি চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার : র্যাব জানায়, হেলাল ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’ গানের মডেল হন। প্রায় ৬ মাস আগে এক ব্যক্তি ইউটিউবে গানটি দেখে হেলালকে চিনতে পারেন। তিনি র্যাবকে বিষয়টি জানান। পরে র্যাব তদন্ত করে জানতে পারে বগুড়ার বিদ্যুৎ হত্যা মামলার আসামি এই মডেল, যার নাম হেলাল। এরই ধারাবাহিকতায় ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাতে র্যাব জানায়, ২০০১ সালে বগুড়ার চাঞ্চল্যকর মাহমুদুল হাসান বিদ্যুৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি হেলাল।
র্যাব জানায়, ১৯৯৭ সালে বগুড়াতে বিষ্ণু হত্যাকা- সংঘটিত হয়। হেলাল ২১ বছর বয়সে সেই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে যান। এলাকায় দুর্ধর্ষ হেলাল নামে পরিচিতি পান। ২০০৬ সালে বগুড়াতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিউল নামে আরও এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হেলাল।
২০০০ সালে দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে হেলালের বাম হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর থেকে তাকে ‘লুলা হেলাল’ও বলত লোকজন। ২০১০ সালে বগুড়া সদর থানায় করা একটি চুরির মামলায় ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হন হেলাল। একই সঙ্গে ২০০১ সালে বিদ্যুৎ হত্যা মামলার বিচারকাজও চলমান থাকে। ২০১৫ সালেই চুরির মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যায়। ওই বছরই বিদ্যুৎ হত্যা মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়। এছাড়া ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে। মুদি দোকানি হেলাল অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
হেলাল পালিয়ে প্রথমে বগুড়া থেকে ট্রেনে করে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে আসেন। পরবর্তীকালে কমলাপুর থেকে ট্রেনে চট্টগ্রামে চলে যান। সেখানে আমানত শাহ মাজারে ছদ্মবেশ ধারণ করে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন। এরপর ট্রেনে করে সিলেটের শাহজালাল মাজারে চলে যান। সিলেটে গিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে আরও কিছুদিন অবস্থান করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে হেলাল নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে কিশোর পলাশ ওরফে গামছা পলাশের একটি গানের শ্যুটিং চলাকালে রেললাইনের পাশে বাউল গান গাচ্ছিলেন। তখন শ্যুটিংয়ে থাকা একজন তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর বহুল জনপ্রিয় ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল’ শিরোনামের গানের বাউল মডেল হিসেবে তাকে দেখা যায়।
