এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নাকচ করেছে সরকার

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৩৩ এএম

নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা ২০২১ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, নির্যাতন এবং বলপূর্বক গুমের মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘ, বিভিন্ন দাতা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর উত্থাপিত উদ্বেগ খারিজ করেছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট-২০২২’ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করায় বা প্রশ্ন তোলায় সমালোচক, সাংবাদিক এমনকি শিশুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। ৭৫২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য. চীন, মিয়ানমারসহ বিশে্বর ১০০ দেশের মানবাধিকার চর্চা বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভূমিকায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ বলেছেন, ২০২১ সালে বিশে^র বিভিন্ন দেশে স্বেচ্ছাচারী কর্তৃত্ব জনগণের তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। স্বৈরাচারীদের এমন দাপটের মধ্যেও গণতন্ত্রের আহ্বান এখনো শক্তিশালী রয়েছে। গণতন্ত্রের বিকাশ অব্যাহত থাকবে যদি গণতন্ত্রপন্থি নেতারা বৈশি^ক সমস্যাকে সঠিকভাবে তুলে ধরে তা সমাধানে কাজ করতে পারেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের (২০২১) ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদ মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মোট ছয়বার তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। ৯ মাস বিচারপূর্ববর্তী আটকাবস্থার পর কারাগারে মারা যান। ফেইসবুকে কভিড-১৯ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করায় ওই সময় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে রাজনৈতিক সমালোচকদের নির্বিচার গ্রেপ্তার ও বিচার করেছে, এমনকি সরকারের সমালোচনাকারী প্রবাসী সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করেছে।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপজ্জনক আবহাওয়াপ্রবণ পরিস্থিতি রয়েছে এবং পর্যাপ্ত সেবার অভাব রয়েছে সেই ভাসানচর দ্বীপে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করার উদ্দেশ্যে সরকার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। ওই দ্বীপে বসবাসযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা করার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে সেখানে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে পাঠিয়ে দিয়েছে। মিয়ানমারে ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার প্রসঙ্গ আছে। এতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা মুহিবুল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। আশ্রয় শিবিরের একটি ইসলামিক শিক্ষালয়ে হামলা চালিয়ে সাত আশ্রিতকে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের দুর্গাপূজার সময় হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িতে হামলা এবং হতাহতের ঘটনাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। বলা হয়, পুলিশ যখন বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গুলি চালায়, তখন চারজন ব্যক্তি নিহত হয়। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে অন্তত আরও তিনজন মারা গেছেন। শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নারী ও মেয়েশিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ^বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগ করা মামলায় আসামিদের খালাস দেওয়া এবং বিচারকের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত