রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ঢেলে সাজানো হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সেবার মান বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
শাহজালালে থাকছে আন্তর্জাতিক মানের দুটি লাউঞ্জ, ৩০০ যাত্রী বসার ব্যবস্থা, স্মোকিং রুম, ডায়াপার চেঞ্জিং স্টেশন, মাদারস কর্নার ও প্রেয়ার রুম। স্থাপন করা হবে স্ক্যানিং মেশিনসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম । আগামী ৬ মাসের মধ্যে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। শাহজালালের মতো অন্য বিমানবন্দরগুলোর অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও একই ব্যবস্থা রাখা হবে। অন্যদিকে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলছে। ওই কাজের অংশ হিসেবে সেখানেও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শাহজালালসহ দেশের সব কটি বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর কাজ চলছে। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালগুলো সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য শাহজালালের পুরনো টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৮ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর তৈরি করা হচ্ছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। ওই ফ্লোরের অর্ধেক অংশজুড়ে থাকবে দুটি আন্তর্জাতিক মানের লাউঞ্জ আর বাকি অর্ধেকে থাকবে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা। ফ্লোরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে লিফট।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, বরিশাল, যশোর ও রাজশাহী বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের কাজও শুরু হবে শিগগিরই।
এ প্রসঙ্গে বেবিচকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজটি শেষ করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য বিমানবন্দরগুলোর অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনগুলো একইভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। এ জন্য একটি বাজেট ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
বেবিচকের ঊর্ধ্বতন আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশে^র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা পেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বেবিচক বিমানবন্দরগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে সব কটি বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে অপরাধ ঠেকাতে নিরাপত্তা সরঞ্জামও স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা পাচারের ঘটনা ঘটেছে একাধিক। এসব রোধ করতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যমান যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীর সংখ্যা; বিশেষ করে সরকারের অনেকগুলো মেগা প্রকল্প দেশের বিভিন্নস্থানে চলমান থাকায় দ্রুত এবং সময় সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে বিদেশি প্রকৌশলী ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিমান পরিবহন এখন অভ্যন্তরীণ চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। করোনা মহামারীর মধ্যেও বর্তমানে প্রতিটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে আসন সংকট চলছে। এই সংকট মোকাবিলায় এয়ারলাইনসগুলোও প্রতিনিয়ত তাদের ফ্লাইট বাড়িয়ে চলছে।
যাত্রীর চাপ সামলাতে কয়েক মাস ধরে হিমশিম খেতে দেখা গেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে; বিশেষ করে শাহজালালের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনটি ছোট হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দেশীয় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিআইপি-সিআইপি ও প্রবাসী যাত্রীদের বসার জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। কর্তৃপক্ষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনালের পাশে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ফ্লোর নির্মাণ করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছিল না।
বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে যাত্রীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনের ওপরে আট হাজার বর্গফুটের আরও একটি বহিঃগমন লাউঞ্জ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বেবিচকের ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলমান এই প্রকল্পে বেবিচকের কোনো আর্থিক ব্যয় হচ্ছে না।
