বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমলেও বেড়েছে সূচক

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:২৪ এএম

চলতি বছর কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা দিলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭০০০ পয়েন্টে আসতেই ফের অস্থির পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহে এর বেশ প্রভাব দেখা গেছে লেনদেনে। তবে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমলেও সূচকে সামান্য বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়েছে। লেনদেনও বেড়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যদিও লেনদেনের সিংহভাগই হচ্ছে অল্প কয়েকটি শেয়ারে।

গত কিছুদিনের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, সূচক খানিকটা বাড়তেই শেয়ার বিক্রির চাপ আসছে। এতে সূচক অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ কর্মকর্তারা জানান, সূচক অবশ্যই মনস্তাত্ত্বিক বাধা তৈরি করছে।

২০১৩ সালে চালুর পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথম সপ্তাহে সূচকটি প্রথমবারের মতো ৭০০০ পয়েন্ট পার করেছিল। এর পর অক্টোবর থেকে পড়তে শুরু করে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কয়েক দফায় এ মাইলফলকের কাছে এসে বারবার নিচে নেমে যায়। জানুয়ারিতে এসেও একই অবস্থা।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর ৭০০০ পয়েন্ট পার করে পরদিনই নিচে নেমে গিয়েছিল ডিএসইএক্স। এক মাস পর গত ৬ জানুয়ারি ফের লেনদেনের মধ্যে সূচকটি ৭০০৪ পয়েন্ট পার করে, তবে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। পরদিনও একই অবস্থা হয়। গত মঙ্গলবার সূচকটি ৭০৯৮ পয়েন্টে উঠে শেষে ৭০৪৯ পয়েন্টে নামে। বুধবারও ৭০৯২ পয়েন্টে উঠে ৬৯৯২ পয়েন্টে নেমে যায়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে অবশ্য ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৭০১৭ পয়েন্টে থেমেছে।

শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজ কর্মকর্তা জানান, কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখন টেকনিক্যাল এনালাইসিস দেখে শেয়ার কেনাবেচা করে। যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার স্বাভাবিক ক্রয় ও বিক্রয় চাপে শেয়ারদর নির্ধারিত হয়, তখন এ এনালাইসিসে আস্থা রাখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মতো পুঁজিবাজারে যেখানে কারসাজিতে শেয়ারদর বাড়ে ও কমে, সেখানে এ এনালাইসিসের মূল্য থাকার কথা নয়। কিন্তু এ কথা বিনিয়োগকারীদের বোঝানোর কেউ নেই। এখন অনেকে যখন এই এনালাইসিসে বিশ^াস করছেন, তখন স্বাভাবিকভাবে এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব লেনদেনে পড়ছে।

এদিকে বছরের প্রথম সপ্তাহে অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও গেল সপ্তাহে এসে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৪ কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৬টির, কমেছে ২১৯টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ১৯টির দর।

দ্বিতীয় পুঁজিবাজার সিএসইর লেনদেন চিত্রও ছিল প্রায় একই রকম। এ বাজারে কেনাবেচা হওয়া ৩৪৩ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ২০৪টির এবং অপরিবর্তিত ১৬টির দর। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ১২৩৪২ পয়েন্টে উঠেছে।

গত সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয় ৭ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। লেনদেন বেড়েছে ২০ দশমিক ৭২ শতাংশ। সিএসইতে গত সপ্তাহে কেনাবেচা হয়েছে ২৬২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৭৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে সার্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ারদর প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। বড় বিনিয়োগকারী ও কারসাজি চক্রের আগ্রাসী ক্রয় শেয়ারটির দর বাড়াচ্ছে। একইভাবে রংপুর ফাউন্ড্রির শেয়ারদর বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে এএমসিএল (প্রাণ), বসুন্ধরা পেপার, আরএকে সিরামিক, তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং লাভেলোর। বিপরীতে ডেল্টা লাইফের শেয়ারদর সর্বাধিক ১২ শতাংশ কমেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত