ফরিদপুরে নার্স-আয়ার ‘ডাক্তারি’

প্রসব করাতে গিয়ে শিশুর কপাল কেটে ৯ সেলাই

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৫৫ এএম

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক ছাড়াই প্রসূতি মায়ের পেট থেকে নবজাতক বের করতে গিয়ে শিশুটির কপাল কেটে ফেলে ক্ষতবিক্ষত করেছেন আয়া ও নার্স। শিশুটির কপালের ক্ষতস্থানে নয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা শহরের আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে আয়া ও নার্সের এমন কাণ্ডের পর ভুক্তভোগী প্রসূতির স্বজনরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালে পুলিশ গিয়ে প্রসূতির অস্ত্রোপচারে জড়িত নার্স এবং হাসপাতালের পরিচালক ও এক দালালকে আটক করে। এ ঘটনায় প্রসূতির স্বজনরা আল-মদিনা হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের মইজুদ্দিন মাতব্বরপাড়ার প্রসূতি রূপা বেগমকে গতকাল ভোরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। সকালে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা না পেয়ে অপেক্ষায় থাকে পরিবারটি। এরই মধ্যে দালালদের প্রলোভনে পড়ে পাশর্^বর্তী আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রূপা বেগমকে। ওই হাসপাতালে সকাল ৮টার দিকে গাইনি চিকিৎসক ছাড়াই নার্স চায়না বেগম ও দুজন আয়া প্রসূতির পেট থেকে বাচ্চা বের করতে গিয়ে শিশুটির কপালের একটি অংশ কেটে ফেলে। পরে দ্রুত বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গিয়ে ৯টি সেলাই দেওয়া হয় নবজাতকের ক্ষতস্থানে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রসূতির পরিবারের সদস্যরা থানায় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল আল-মদিনা হাসপাতালে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে প্রসূতির অস্ত্রোপচারে জড়িত নার্স চায়না বেগম এবং হাসপাতালের পরিচালক পলাশ ও এক দালালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

আহত নবজাতকের ফুপু হোসনেয়ারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে নার্স চায়না বেগম ও দুজন আয়া ডাক্তার ছাড়াই আমার ভাবির পেট থেকে বাচ্চা বের করতে গিয়ে বাচ্চার কপালের অনেকখানি অংশ কেটে রক্তাক্ত করে ফেলে। পরে দ্রুত বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গিয়ে নয়টি সেলাই দেওয়া হয় বাচ্চার কপালে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন কর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির (আল-মদিনা হাসপাতাল) পরিচালক, আয়া ও এক দালালকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ জাতীয় ঘটনা কাম্য নয়। আমরা ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে তিনজনকে আটক করেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে আমরা বলেছি।’

চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতা মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রসূতি মায়ের অপারেশন ও এ জাতীয় কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ডেটাবেইস তৈরি করছি। এ ব্যাপারে মনিটরিং জোরদার করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত