গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর আলোচনায় আসা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি পরিচালনার স্বার্থে পরিচালনা বোর্ডকে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। সিটি ব্যাংক ও সাউথ ইস্ট ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইভ্যালি ব্যবস্থাপনায় গঠিত বোর্ডের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলমের সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, ইভ্যালির নামে থাকা ২২টি গাড়ি বিক্রি বা ভাড়া দিয়ে কোম্পানির স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নামে কোথায় কী সম্পদ রয়েছে, কী খাতে অর্থ খরচ করা হয়েছে এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য হাইকোর্টে জমা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আদালতে পরিচালনা বোর্ডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোরশেদ আহমেদ খান। ইভ্যালি-সংক্রান্ত রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম মাছুম ও মাহসিব হোসাইন।
ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিচালনা বোর্ড ইভ্যালির ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের পরিমাণ জানিয়ে খরচের জন্য টাকা তোলার অনুমতি চায়। আদালত কোম্পানির স্বার্থে ওই অর্থ তোলার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি ইভ্যালির দুই কর্মকর্তা রাসেল ও তার স্ত্রী কোথায় কী কিনেছেন, খরচ করেছেন সেটি জানাতে বলেছে।
গত ১৮ অক্টোবর হাইকোর্টের এই কোম্পানি বেঞ্চ এক আদেশে ইভ্যালি ব্যবস্থাপনায় চারজনের একটি অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে দেয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে। আর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবীর মিলনকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করে হাইকোর্ট।
ইভ্যালি থেকে প্রতারিত এক গ্রাহকের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় নথি তলব করে উচ্চ আদালত। ১২ অক্টোবরের মধ্যে যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের (জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস) পরিদপ্তরের নিবন্ধককে এ সংক্রান্ত নথি দাখিল করতে বলে হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় নথি দাখিল করা হয়। গত ১২ অক্টোবর নথি পর্যালোচনার পর ইভ্যালির দায়দেনা নিরূপণ এবং প্রতিষ্ঠানটি তদারকি করতে চার সদস্যের একটি বোর্ড গঠনে অভিমত দেয় হাইকোর্ট।
