রবিবার রাতে অসংখ্য ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী বিরজু মহারাজ। কত্থক নৃত্যকে সারা জীবন কেবল লালনই করেননি, এর সঙ্গে যোগ করেন ভিন্ন মাত্রা। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেক নামি শিল্পী ছিলেন তার শিষ্য। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
বিরজু মহারাজ
ভারতের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র রবিবার দুপুরে মারা যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর খবর আসে, আরেক শিল্পী পণ্ডিত বিরজু মহারাজ আর নেই। রবিবার রাতে ৮৩ বছর বয়সে জীবনাবসান হয় কত্থক নৃত্যের এই মহারাজার। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার রাতে দিল্লির বাড়িতে নাতির সঙ্গে খেলা করছিলেন বিরজু মহারাজ। ওই সময় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন তিনি। দ্রুত দক্ষিণ দিল্লির সাকেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। বেশ কিছুদিন থেকে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন পণ্ডিত বিরজু। কিছুদিন আগে তার ডায়ালিসিস হয়। তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে প্রখ্যাত এই শিল্পীর নাতি স্বরাংশ মিশ্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, আমার দাদু পণ্ডিত বিরজু মহারাজ আর নেই।’ বিরজু মহারাজের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরজু মহারাজের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘ভারতীয় নৃত্যকলাকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণের খবর খুবই দুঃখজনক। তার মৃত্যু সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার পরিবার ও ভক্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি শোক প্রকাশ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও উপ-রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেন বলিউডের চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ ঘাই, ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও চলচ্চিত্র পরিচালক অশোক পণ্ডিতসহ ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আরও অনেক ব্যক্তিত্ব। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ টুইট করে লেখেন, ‘পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণে যেন এক যুগ শেষ হলো। গভীরভাবে শোকস্তব্ধ! তার চলে যাওয়ায় সংস্কৃতি পরিসরের সর্বত্রই যেন গভীর ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের জন্য সমবেদনা এবং তার জন্য অশেষ প্রার্থনা।’ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘হঠাৎ করে খারাপ খবর পেলাম। আপনার শিল্পকলা মনে থাকবে। অপূরণীয় ক্ষতি! আপনার ছন্দ তুলনাহীন। কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচিন তেন্ডুলকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘পণ্ডিত বিরজু মহারাজ তার নৃত্যকলার মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত। অনেকে তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ওপারে ভালো থাকবেন।’
কালকা-বিন্দাদিন ঘরানার পণ্ডিত বিরজু মহারাজ ছিলেন একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী। নাচের সময় তার অভিব্যক্তি থেকে চোখ ফেরানো ছিল কঠিন। জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তিনি নাচের মাধ্যমে উপস্থাপন করতেন। এদিক থেকে বিরজু মহারাজকে নৃত্যের গল্পকার বললে অত্যুক্তি হবে না। কত্থক নৃত্যে তিনি যোগ করেছিলেন ভিন্ন স্বতন্ত্র এক মাত্রা, যা তাকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পরিচিত করে বিদেশের মাটিতেও। কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর একবার বিরজু মহারাজের নাচ দেখে তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি তো লয়ের পুতুল!’ কত্থক ধ্রুপদী নাচে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি।
ভারতজুড়ে বিরজু মহারাজের অসংখ্য ভক্ত ও ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। ভক্তরা বিরজুকে ভালোবেসে পণ্ডিতজি বা মহারাজজি বলে সম্বোধন করতেন। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম বাহক ছিলেন তিনি। মঞ্চে দর্শকের সামনে দুর্দান্ত গল্প করতে পারতেন বিরজু। শিল্পসাধনা ছিল বিরজু মহারাজের প্রথম ও শেষ আরাধনা; মঞ্চই ছিল তার মন্দির। নাচের মাধ্যমে বিশ্ব মাতানো এই শিল্পী বরাবরই সাধারণ আটপৌরে জীবনাযাপনকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে বরাবরই গভীর সম্পর্ক ছিল বিরজু মহারাজের। বেশ কয়েকবার এ দেশে আসেন তিনি। বেঙ্গল আয়োজিত উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসবের প্রাণপুরুষ ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ছায়ানটের কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়ের ‘কত্থক নৃত্য উৎসব ১৪২৩’-এ অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন বিরজু মহারাজ। ওই উৎসবে মঞ্চে তিনি দর্শকদের শোনান নিজের জীবনের গল্প। তাদের জানান নাচ নিয়ে তার চিন্তা-ভাবনা ও দর্শনের কথা। তিনি বলেছিলেন, ‘পুরো পৃথিবীই নাচছে! বাতাস নাচছে, চাঁদ নাচছে, পাতা নাচছে, ফুল নাচছে। ঈশ্বর আমাদের সবার মধ্যে অদ্ভুত ছন্দ দিয়েছেন। হৃদয়ের কম্পনই নাচ।’ বাংলাদেশের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ, শিবলী মুহম্মদসহ বলিউডের মাধুরী দীক্ষিত, দীপিকা পাড়ুকোনসহ নামকরা অনেক অভিনেত্রী এই শিল্পীর কাছে নাচের তালিম নেন।
শৈশব
১৯৩৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের লক্ষেèৗ শহরে বিখ্যাত কত্থক নৃত্যশিল্পী পরিবারে জন্ম হয় বিরজু মহারাজের। ব্রিজমোহন নাথ মিশ্র তার পারিবারিক নাম। প্রথমে অবশ্য তার নাম এটি ছিল না। জন্মের পরপরই তার নাম রাখা হয় দুঃখহরণ। এরপরই নাম হয় ব্রিজমোহন নাথ মিশ্র। এই ব্রিজমোহন থেকেই বিরজু। এ নামেই বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হন তিনি। সাত পুরুষ ধরে তার পরিবারে কত্থক নাচের চর্চা। ফলে ছেলেবেলা থেকে নাচ-গানের পরিবেশের মধ্যে বড় হন বিরজু। খুব ছোট থাকতে বাবা ও গুরু প্রখ্যাত কত্থক-শিল্পী অচ্ছন মহারাজের কাছ থেকে নাচের তালিম নেন তিনি। এ ছাড়া দুই কাকা শম্ভু মহারাজ এবং লাচ্চু মহারাজও তাকে নাচের বিষয়ে অনুপ্রেরণা জোগান। একটু বড় হয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে বাবা অচ্ছন মহারাজের সঙ্গে একই স্টেজে নৃত্য পরিবেশন করেন বিরজু। নয় বছর বয়সে গুরু ও শিক্ষক অচ্ছন মহারাজকে হারান তিনি। বাবার মৃত্যুর পর অবশ্য নাচ শিখতে সমস্যা হয়নি বিরজুর। কারণ দুই কাকা তাকে তালিম দেওয়া জারি রাখেন।
কলকাতার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল বিরজুর। ১৯৫২ সালে ১৪ বছর বয়সে এই শহরে মন্মথ নাথ ঘোষের বাড়িতে জীবনে প্রথম মঞ্চে পারফর্ম করেন বিরজু। কাকা লাচ্চু মহারাজ তখন মুম্বাইয়ে কোরিওগ্রাফির কাজ করছেন। আরেক কাকা শম্ভু মহারাজ ব্যস্ত ছিলেন লক্ষেèৗতে নিজের কাজে। বাবার মৃত্যুর পর তার মা বাড়িঘর বেচে দিতে বাধ্য হন। বিরজুর মা পাতানো এক ভাইয়ের সঙ্গে বিরজুকে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন। কৈশোরে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার নামের আগে ‘গুরু’ তকমা জুড়ে যায়। একপর্যায়ে প্রতিভাবান এই শিল্পী রামপুরের নবাবের দরবারে নৃত্য পরিবেশন করেন। কিশোর বয়সে নৃত্যগুরু হয়ে ওঠা বিরজু প্রথমে সংগীতভারতী, পরে ভারতীয় কলাকেন্দ্র, কত্থককেন্দ্র ও নিজের প্রতিষ্ঠিত কলাশ্রমে নাচ শেখান।
অর্জন
আন্দাজ, আমদ, ঠাঁট বা নিকাষ, গৎ, গৎভাও, বোলপরম ও ঠাঁট বিরজুর নাচে এমন সুচারু, প্রাণবন্ত, উদ্দাম ও গতিশীল উপস্থাপনা কত্থক নৃত্যে যোগ করে ভিন্ন যোজনা। কত্থকের কৌশল, ব্যাকরণিক বিন্যাস ও উপস্থাপন রীতিতে তিনি যোগ করেন অভিনব রুচি ও নান্দনিক শৃঙ্খলা।
নাচই ছিল কিংবদন্তি পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রথম ভালোবাসা। মাত্র ২৮ বছর বয়সে সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান বিরজু মহারাজ। ১৯৮৩ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ পুরস্কার পান ৪৬ বছর বয়সী বিরজু মহারাজ। এ ছাড়া ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজ্য সরকার তাকে সম্মানসূচক পুরস্কার কালীদাস সম্মানে ভূষিত করেন। প্রাচীন ভারতীয় কবি ও লেখক কালীদাসের নামে ওই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়। পান নৃত্যচূড়ামণিসহ আরও অসংখ্য পদক ও পুরস্কার। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও খাইরাগারাহ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে দেয় সম্মানসূচক ডিগ্রি।
প্রতিভার মেলবন্ধন
কত্থক নৃত্য ছাড়াও কোরিওগ্রাফির দিকেও ঝোঁক ছিল বিরজু মহারাজের। বলিউডের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গানের কোরিওগ্রাফি করেন কত্থক গুরু বিরজু মহারাজ। আলোচিত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ছবিতে কোরিওগ্রাফারের কাজ করেন তিনি। এ ছাড়া সঞ্জয় লীলা বানশালি পরিচালিত হিন্দি চলচ্চিত্র ‘দেবদাস’ ও ‘বাজিরাও মাস্তানির’ মতো বিশাল বাজেটের ছবিতেও বিরজু মহারাজের কোরিওগ্রাফি মুগ্ধ করেছে দেশ-বিদেশের দর্শকদের। ২০১২ সালে ‘বিশ্বরূপম’ ছবিতে অসাধারণ কোরিওগ্রাফির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান বিরজু মহারাজ।
এ ছাড়া ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ‘দে আশকিয়া’, উমরাও জান’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ও ‘গাদ্দার’ চলচ্চিত্রে কাজ করেন তিনি। ‘বাজিরাও মাস্তানি’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৬ সালে ‘শ্রেষ্ঠ কোরিওগ্রাফার’ হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান বিরজু। ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রের ‘কাঁহে ছেড় মোহে’ গানের কোরিওগ্রাফার ছিলেন বিরজু মহারাজ। এই গানের জন্য নেচেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত।
নাচ ও কোরিওগ্রাফির পাশাপাশি সব ধরনের ড্রাম, তবলা ও নাল বাজানোতে পারদর্শী ছিলেন বিরজু মহারাজ। এ ছাড়া বাজাতেন পাখোয়াজ, সরোদ, সেতার, সারেঙ্গি, বাঁশি ও বেহালা। ছবিও আঁকতে পারতেন তিনি। গাইতেন নানা ঘরানার গান। ঠুমরি, দাদরা, ভজন ও গজল ছিল তার প্রিয়। ১৯৭৭ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ চলচ্চিত্রে দুটো নৃত্যের পরিচালক ছিলেন বিরজু মহারাজ। ঐ ছবিতে ‘কানহা ম্যায় তোসে হারি’ ঠুমরি গেয়েছিলেন বিরজু। বলিউডের অনেক তারকা শিল্পী তার সরাসরি শিষ্য। ভারতীয় পুরাণ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যনির্ভর ১৭টি নৃত্যনাট্য নির্দেশনা দেন বিরজু।
শোক
পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণের খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে ভারতীয় শিল্পাঙ্গন। ভোজপুরী লোকসংগীত শিল্পী মালিনী অবস্থি বিরজু মহারাজের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে টুইটারের লেখেন, ‘আজ ভারতীয় সংগীতের লয় থেমে গেল। সুর মৌন হয়ে গেল। ভাব শূন্য হয়ে গেল। বিরজু মহারাজ আর নেই। লক্ষেèৗয়ের বৈঠকখানা আজ শূন্য হয়ে গেল। মহারাজজি সারা বিশ্বে কালকা-বিন্দাদিনজির গৌরবময় ঐতিহ্যের সুবাস ছড়িয়েছিলেন, অসীমে বিলীন হয়ে গেলেন। এ এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ গায়ক আদনান সামি লেখেন, ‘প্রবাদপ্রতিম কত্থক নৃত্যশিল্পী পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ। পারফর্মিং আর্টের এক অসাধারণ শিল্পী ছিলেন তিনি। একাধিক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন বিরজু মহারাজ। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’ ‘ভারত এক নক্ষত্রকে হারাল’ লিখেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক অশোক পণ্ডিত।
মাধুরী দীক্ষিত ছিলেন পণ্ডিত বিরজু মহারাজের প্রিয় নৃত্যশিল্পী। তিনি বিশ্বাস করতেন, মীনা কুমারী ও ওয়াহিদা রেহমানের মতো বড় নৃত্যশিল্পী মাধুরী দীক্ষিত। তার অনেক গানের কোরিওগ্রাফি করেন বিরজু মহারাজ।
ছাত্রী মাধুরী গুরুর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েন। ইন্সটগ্রামে তিনি লেখেন, ‘বিরজু মহারাজ একজন লেজেন্ড। শিশুসুলভ সারল্যের অধিকারী ছিলেন তিনি। বিরজু মহারাজ কেবল আমার গুরুই ছিলেন না, একই সঙ্গে প্রাণের বন্ধুও ছিলেন। তিনি আমাকে নাচ ও অভিনয়ের সূক্ষ্ম কাজ শিখিয়েছেন। একই সঙ্গে মজার মজার কথা বলে হাসিয়েছেন। বিরজু মহারাজ পেছনে ফেলে রেখে গেলেন অসংখ্য শোকাতুর ভক্ত এবং শিষ্যকে। একই সঙ্গে রেখে গেলেন এক অনন্য ঐতিহ্য যা আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। মহারাজজি আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে। আমাকে শুধু নাচ না, জীবনের পাঠও দিয়েছেন। আমাকে নম্র হতে শিখিয়েছেন। নাচে কমনীয়তা ও লাবণ্য আনতে শিখিয়েছেন।’
