২০১৮ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়া স্টিভ রোডসকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর ২০১৯-এর জুলাইয়ে বরখাস্ত করেছিল ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান দেশে ফিরে যান। আড়াই বছর আবার বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। বিপিএল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ‘পরামর্শক’ হয়ে।
তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে রোডস বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। এবার অবশ্য পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে কুমিল্লার কোচ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা গেল তাকে। দীর্ঘদিন পর ফিরে প্রথম দেখাতেই কুমিল্লার ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। এমনকি রোডস মুগ্ধ করেছেন কুমিল্লার প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকেও। রোডসের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় কাজ করা সহজ হবে মনে করেন ২০১২ থেকে কুমিল্লার সঙ্গে থাকা সালাউদ্দিন, ‘ভালো কিছু পেলে, দলের লাভ হলে তো খারাপ কিছু না। উনি অনেক অভিজ্ঞ, বাংলাদেশেরও প্রধান কোচ ছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম সফল কোচ। তার মাথা থেকে অনেক ভালো কিছু আসতে পারে। আমাকে হয়তো অনেক ভালো তথ্য দেবেন, আমি হয়তো ভালো কিছু শিখতে পারব।’ সেই সঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, ‘খুব বিনয়ী, ভালো মানুষ, এসেই ছেলেদের কাছে নিজের ভূমিকা পরিষ্কার করেছে। ভালো ভালো কিছু পরামর্শ দিয়েছে, কীভাবে কী করতে হবে এসব নিয়ে। সে দলের পরামর্শক হিসেবে আছে।’
হেড কোচ তো সালাউদ্দিন। তাহলে রোডসকে কেন আনতে হলো কুমিল্লার? সালাউদ্দিন মনে করেন, রোডসের কারণে তার কার্যক্রমে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগই নেই। ‘আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি- যখন খেলা চালাব তখন আমার নিজের মাথা থেকেই ভুল করব। আমি অন্যের মাথা থেকে ভুল করতে রাজি না। যদি ভুল করি ওখান থেকে কিছু শিখতে পারব। আরেকজনের মাথা থেকে ভুল করার সুযোগ আমার নেই, সেই ক্যারেক্টারও নেই। যদি ভুল হয়, পুরো দোষটা আমারই হবে। ভালো হলেও আমারই হবে। অন্যের মাথা থেকে ব্রেন ধার করে আমি খুব কম কাজ করি।’
শুক্রবার থেকে শুরু বিপিএলে দুবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার প্রথম ম্যাচ শনিবার ২২ সিলেট সানরাইজার্সের সঙ্গে। জাতীয় দলের সফর শেষে শনিবার দেশে ফেরা লিটন দাশকে এ ম্যাচে দেখা নাও যেতে পারে। বিশ্রামে আছেন তিনি। কোচ সালাউদ্দিন টানা ম্যাচ খেলাদের বিশ্রাম দেওয়ার পক্ষে। নিউজিল্যান্ড সফরে যারা ছিল, বায়োবাবলে থাকতে থাকতে তাদেরও মানসিক স্বস্তি দরকার। এ কারণে কিছু ছেলের বিশ্রাম দিয়েছি। যারা বিসিএল, এনসিএলে খেলেছে তারা যথেষ্ট ম্যাচ খেলেছে। তাদের বিশ্রামও জরুরি। এই টুর্নামেন্টও এক মাসের। এতগুলো ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে ইনজুরির ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হবে।’
লিটন ছাড়া এই দলে জাতীয় দলের বর্তমানদের মধ্যে মুমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাবেকদের মধ্যে ইমরুল কায়েস আছেন। বিদেশিদের মধ্যে আছেন ফাফ ডু প্লেসি, মইন আলী, কুশল মেন্ডিস, সুনিল নারিন ও ওশান টমাস। অধিনায়ক হতে পারেন দেশিদের মধ্যে কেউ। ২০১৮-১৯-এ চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার অধিনায়ক ছিলেন ইমরুল কায়েস।
