বিরোধীদলবিহীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে চারটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী ও বামপন্থি সমর্থিত শিক্ষক সমাজের (হলুদ দল) মনোনয়ন না পেয়েও সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের আস্থাভাজন হওয়ার সুযোগ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের পদোন্নতির ‘আশ্বাস’ দিয়ে তাদের ভোট বাগিয়ে নিয়েছেন তারা।
গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়লাভ করেছেন হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার এবং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এ এম জিয়াউল ইসলাম। বাকি দুটি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি পদে হলুদ দলের প্রার্থী ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ পদে চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন জয়লাভ করেন। ১১টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ বাকি সাতজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলুদ দলের কয়েকজন সদস্য জানান, এই চারটি পদে বর্তমান প্রশাসনের আস্থাভাজনদের মনোনয়ন না দেওয়াতে হলুদ দলেরও একক অংশগ্রহণ সত্ত্বেও শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিজয়ী করেতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার প্রলোভন দেওয়ায় তাদেরকে ব্যাপক হারে ভোটে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে খোলা চিঠিও আমরা দেখেছি। তবে এসব অভিযোগ ‘হাস্যকর’ মন্তব্য করে জামায়াত ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ শামীন উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ না থাকায় আমরা প্যানেল দেইনি। আর নির্বাচনের ভোট দেওয়া না দেওয়ার কোনো দলীয় সিদ্ধান্তও ছিল না। প্রত্যেকে নিজ উৎসাহে ভোট দিতে গিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন শেষে চবি শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার বলেন, আমরা সৎ, সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তাই শিক্ষকরা আমাকে ভালোবেসে ভোট দেওয়ায় আমি জয়যুক্ত হয়েছি।
তিনি জানান, ‘অপপ্রচারযুক্ত’ একটি ভুয়া ই-মেইল এসেছে অনেকের কাছে, যা তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন।
হলুদ দলের মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, অতীতেও বিরোধী দলের প্রার্থীদের কাছে অনেক পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এবারও তাই হয়েছে।
