বিগত দুই নির্বাচন কমিশন সার্চ কমিটির মাধ্যমেই হয়েছে। এই রীতি অনুসরণ ও অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামী মাসে যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হতে যাচ্ছে, সেটা নতুন আইন অনুযায়ী হবে কিনা। সেটা নিয়ে সরাসরি কোনো কথা বলেনি দলটি। প্রক্রিয়া অনুযায়ীই নতুন আইন পাস করা হবে, যা পাসের আগে মন্ত্রিসভা, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং সর্বশেষ সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই পাস হবে। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন গঠনে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপে চার দফা প্রস্তাব দেয় ক্ষমতাসীন দলটি। সংলাপ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
লিখিত প্রস্তাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে বলা হয়, ইসি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান সাপেক্ষে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। বর্তমানে এই ধরনের কোনো আইন না থাকায় সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্র্তৃক ইসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান ব্যতিরেকে অন্য কোনো আইন প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা নেই। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে একটি রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে আওয়ামী লীগ একটি সাংবিধানিক রীতি ও রাজনৈতিক অনুশীলন প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সাংবিধানিক রীতিটি হলো ‘সার্চ কমিটি’/‘অনুসন্ধান কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে সকলের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন। এটি ২০১২ ও ২০১৭ সালে অনুশীলন করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। দুইবারই দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই অনুশীলনে অংশগ্রহণ করেছে। তাই এই রীতির আলোকে এবং এই প্রক্রিয়ালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে আইন পাস নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা উপস্থাপনের জন্য অনুমোদিত হয়েছে সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে। খসড়া আইনটি যথযথ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জাতীয় সংসদে প্রেরণ করবে। এরপর জাতীয় সংসদ প্রচলিত আইনের বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই আইনের প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া এক দিনেই তো শেষ হয় না। কোন কোন সিঁড়িতে কোন কোন বিষয় আলোচনা হয়, এসব আছে। মন্ত্রিসভার ধাপ আছে। তার আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আছে সেখানে আলোচনা হবে। সেখানে অনুমোদনের পরে সংসদে যাবে। আলোচনা শেষে সেখানেই পাস হবে ইসি গঠনের নতুন আইন। আগামী নির্বাচন কমিশন কি নতুন আইনেই গঠিত হবে এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেননি কাদের। তবে তিনি বলেছেন, আইনের কোনো বিকল্প বিধান নেই। যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের আইন পাস হয়, সেভাবেই একই প্রক্রিয়া এক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটার অবকাশ নেই। যদি আইনটা হয়ে যায়, তাহলে এর অধীনেই হবে। আইন পাসের জন্য ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়া নেই। অথবা আইন পাসের কোনো ম্যাজিকের তাস নেই। এটা নিয়ম অনুযায়ী। আইন এত দ্রুত পাস হওয়ার নজির নেই। নতুন ইসি কি সার্চ কমিটির মাধ্যমেই হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কাম অ্যান্ড সি। নাথিং ইজ ইম্পসিবল। চলমান সংসদে নতুন আইন পাস হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। এটা যেহেতু জনদাবি। জাতীয় স্বার্থে এই ধরনের আইন ৫০ বছর আগে হওয়া দরকার ছিল। হয়নি বলে এখন কেন হবে না। প্রক্রিয়া তো আছে। প্রক্রিয়ার সব প্রচেষ্টা নিয়োগ করা হবে। এই প্রক্রিয়া চলতে হবে। ৫০ বছর তো আমরা করতে পারিনি। দুইবার ফেল করেছি। তৃতীয়বারে তো হয়েও যেতে পারে। চেষ্টাটা কেন আমরা অব্যাহত রাখব না। এর আগে সোমবার বিকেলে বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যায়। বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয়ে এ বৈঠক চলে প্রায় এক ঘণ্টার মতো। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।
