মাগুরায় মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ হয়ে জন্ম নেওয়া সুরাইয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকার সাভারের সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভুঁইয়া বলেন, ‘সুরাইয়ার স্কুলের শিক্ষক ফেরদৌসি জয়ার উদ্যোগে সিআরপিতে কর্মরত মাগুরার সন্তান কাজী বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুরাইয়া ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত সিআরপিতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পারামর্শ দিলেও অর্থাভাবে সম্ভব হয়নি। এ বছর সুরাইয়াকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সে স্কুলে যেতে পারছে না। তার কোমর থেকে দুই পায়ের নিচের অংশ অকেজো হয়ে যাওয়ায় হাঁটতে পারে না। ডান হাতেও বল নেই।’
এদিকে সুরাইয়াকে সিআরপিতে ভর্তির খবর জানতে পেরে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর গতকাল বিকেলে কিছু নগদ অর্থ সহায়তা করেন।
সুরাইয়ার মা নাজমা বেগম জানান, গুলির আঘাতে সুরাইয়ার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বাম চোখের অবস্থাও ভালো না। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ডান চোখ তুলে না ফেললে বাম চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক ফেরদৌসি জয়া বলেন, ‘স্কুলে অন্যদের মতোই সুরাইয়ার প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ রয়েছে। তাকে নিয়ে ফেইসুবকে লেখালেখির কারণে বিষয়টি আইনজীবী ওহিদুর রহমান টিপুর নজরে আসে। তিনি মাগুরার সন্তান সিআরপিতে কর্মরত কাজী বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করে দেন। আজ (গতকাল) তার মাধ্যমে সুরাইয়াকে ভর্তি করা হয়েছে।’
মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম জানান, পরিবার চাইলে সুরাইয়ার চিকিৎসা, লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন তারা।
২০১৫ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় শহরতলির দোয়াপাড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে বাচ্চু ভুঁইয়ার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা বেগমসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
এরপর মাগুরা সদর হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে সুরাইয়ার জন্ম দেন নাজমা। পরে দেখা যায়, গুলিটি শিশুর পেটে ঢুকে বুকের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে ডান চোখে লেগেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ দিনের চিকিৎসা শেষে তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন মা-বাবা।
