রিয়াজের কান্না সত্যি? না অভিনয়!

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:২৪ পিএম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএফডিসিতে তারকা ও সাধারণ শিল্পীদের নিত্য আনাগোনা। এমন আয়োজনে গতকাল হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন নায়ক রিয়াজ। সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। জানা গেছে, সাধারণ সদস্য পদ স্থগিত হওয়া শিল্পীদের সঙ্গে সংগতি জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন নির্বাচনে সহসভাপতি পদের প্রার্থী চিত্রনায়ক রিয়াজ।

এর আগে ১৮৪ জন চলচ্চিত্রশিল্পীর সাধারণ সদস্য পদ স্থগিত করে বর্তমান মিশা-জায়েদ কমিটি। সাধারণ সদস্য পদ স্থগিত করা কেন অবৈধ হবে না— জানতে চেয়ে ইতিমধ্যে এ কমিটির ওপর রুল জারি করেছেন উচ্চতর আদালত। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভোট প্রদানে বিরত ছিলেন এ শিল্পীরা। কিন্তু এবার তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার। সোমবার সন্ধ্যায় এফডিসিতে অনেক জ্যেষ্ঠ শিল্পী নিজেদের ভোটাধিকার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে রিয়াজও নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন। হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। বলেন, এই মানুষগুলোর জন্য কিছু করতে চায় তার প্যানেল। কাঁদতে কাঁদতে রিয়াজ বলেন, ভোটাধিকার হারানো এই মানুষগুলোর কান্না থামিয়ে মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে চাই। এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকান। তাদের সাথে অন্যায় হয়েছে। রিয়াজের কান্নার সঙ্গে সেখানে হট্টগোল শুরু হয়। ভোটাধিকার হারানো কমপক্ষে ৫০ জন শিল্পী চিৎকার করে কান্না শুরু করেন।

এদিকে রিয়াজের এই কান্না ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে রিয়াজের কান্না সত্যি? নাকি অভিনয়? কেউ কেউ বলছেন অভিনয়, আবার কেউ কেউ বলছেন মায়াকান্না। শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানও রিয়াজের কান্নাকে ‘মায়াকান্না’ বলে উল্লেখ করেন।

এবার সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং রিয়াজ। আজ সাংবাদিকদের রিয়াজ বলেন, ‘কোনো কিছু অন্যভাবে নেওয়ার আগে, কিছু বলার আগে ভাবা উচিৎ, আমরাও মানুষ। আমাদেরও হাসি-কান্না আছে। আমরা চেষ্টা করি আবেগকে দমিয়ে রাখতে। কিন্তু অনেক সময় দীর্ঘদিনের দমিয়ে রাখা আবেগের বহিঃপ্রকাশ হয়ে যেতেই পারে। একজন বৃদ্ধ শিল্পীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে আমি যদি ভুল করে থাকি, আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন।’

রিয়াজের কান্না অভিনয় না সত্যি? সেই বিষয়ে রিয়াজ বলেন বলেন, ‘আমরা শিল্পী। তবে একজন মানুষের মধ্যে সহজাত যে আবেগ থাকে, সেটা আমাদের মাঝেও আছে। আমার মা যখন মারা যান এবং আমি যখন কাঁদছিলাম তখন অনেকের মনে হয়েছিল, এটা হয়ত অভিনয়। এটা আমি ফেস করেছি বিগত দিনে। এটা শিল্পীদের একটি চিরায়ত ব্যাপার।’

রিয়াজ আরও বলেন, ‘একজন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ, ষাটোর্ধ নারী, যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী গানের তালে নাচছিলেন। এই মানুষগুলোর খুব বেশি চাওয়া-পাওয়া নেই। তাদের আনন্দ দেখে এবং তাদের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি জেনে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। সেই আবেগকে নিয়ে যারা ট্রল করেছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা। আপনারা এভাবেই ট্রল করতে থাকেন। তাতে আমাদের কিছু যাবে-আসবে না। কারণ আমি জানি আমি কী, আমার সৃষ্টিকর্তা জানেন আমি কী, শিল্পীরা জানেন আমরা কী।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত