হবিগঞ্জে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে হরিলুট!

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৪৮ পিএম

গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জের তিন উপজেলায়। অর্ধেক বা আংশিক কাজ করে পুরো অর্থ উঠিয়ে নিয়েছেন প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা। আর এসব কাজে সহায়তার অভিযোগ খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে। উপজেলা তিনটি হলো হবিগঞ্জ সদর, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই।

তিন উপজেলা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে হবিগঞ্জ সদর, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার গ্রামীণ সড়ক এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ১৮৫ টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকার আওতায় ২ কোটি ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬৭৩ এবং তিনটি উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৯ হাজার ৫১২ টাকা ব্যয় করা হয়। এসবের মধ্যে প্রায় ১০টি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তাঘাট সংস্কারের নামে নামকাওয়াস্তে কাজ করে সরকারি কোষাগার থেকে পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন ওই অর্থ। এছাড়া ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দের নামেও হয়েছে স্বজনপ্রীতি। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য মোট প্রকল্প ৭০টি। এর মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ি যে ইউনিয়নে, সেই রিচি ইউনিয়নে ২৯টি ও এর লাগোয়া লুকড়া ইউনিয়নে ২১টি প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০টি প্রকল্পের টাকা ছয়টি ইউনিয়নে দায়সারাভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

লোকড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ওয়াহেদ মিয়ার বাড়ির সামনের মাটির রাস্তা পুনর্নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন নারী ইউপি সদস্য ঝর্ণা আক্তার। বরাদ্দের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ হাজার ফুট দৈর্ঘ্য, ৮ ফুট প্রস্থ ও ২ ফুট উঁ”ু করে মাটি ফেলার কথা থাকলেও সরেজমিন দেখা গেছে, ২০ ভাগ কাজ করে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প চেয়ারম্যান ঝর্ণা আক্তারের দাবি, তিনি কাজ করার সময় বর্ষা ছিল। তাই পুরোপুরিভাবে শেষ করতে পারেননি। সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে তিনি পুনরায় মেম্বার নির্বাচিত হওয়ায় এবার কাজ শেষ করবেন। তবে পুরো কাজ না করে বিল তুলেছেন কীভাবে এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর রশিদ মাস্টারের বাড়ির কাছ থেকে হামিদ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থ মাটি সড়ক নির্মাণেও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। সেখানেও অর্ধেকের কম কাজ করেই পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। লাখাই উপজেলার অধিকাংশ প্রকল্পেই নয়ছয় হয়েছে। স্বজনগ্রামের নূর মিয়ার বাড়ি হতে শিবপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যরে রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব রেজা ইমরান অভিযোগ অস্বীকার করেন।

হবিগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহান প্রায় ১২ বছর ধরে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বয়ং উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের।

প্রকল্পগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ জাহান বলেন, ‘আমি বলব সব প্রকল্পই পুরোপুরি হয়েছে, আবার বলব কোনোটিই হয়নি। কাজ পুরোপুরি বা আংশিক যা-ই হোক না কেন, প্রকল্পের একটি পার্সেন্টেজ ওপরের লোকজনকে দিতে হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত