৭৭ বছর পর আনা ফ্রাঙ্কের বিশ্বাসঘাতকের খোঁজ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৪৩ এএম

বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে তাও ৭৭ বছর হলো। এই সময়ের মধ্যে বদলে গেছে অনেক কিছুই। কেবল কিছু ঘটনা আর চরিত্র এখনো জীবন্ত হয়ে আছে মানুষের মনে। কিশোরী আনা ফ্রাঙ্ক তেমন এক চরিত্র। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক নাৎসি বন্দিশিবিরে মারা যান আনা। তার মাত্র ছয় মাস আগে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের একটি গোপন জায়গা থেকে আনা ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক করে নাৎসি বাহিনী। কীভাবে তারা ধরা পড়েন তা জানা যায়নি দীর্ঘদিনেও। তাদের ধরিয়ে দিতে কে বা কারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল সে বিষয়টিও ছিল আড়ালে। তবে ৭৭ বছর পর কিশোরী আনাকে ধরিয়ে দেওয়ার পেছনে ‘মূল’ কে ছিল, তা বেরিয়ে এসেছে নতুন এক তদন্তের মধ্য দিয়ে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক নানা কৌশল ব্যবহার করে বহু বছরের অমীমাংসিত প্রশ্নের জবাব পেয়েছেন তদন্তকারীরা। 

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তদন্তকারী দলে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তদন্ত শেষে এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ভিন্স প্যানকোকে আরনল্ড জানিয়েছেন, আনাদের ধরিয়ে দেওয়ার মূলে ছিলেন ভ্যান ডেন বার্গ নামের আমস্টারডামের এক ইহুদি ব্যক্তি।

জানা গেছে, ভ্যান ডেন বার্গ সে সময় আমস্টারডামের ইহুদি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় নাৎসি নীতি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হয়েছিল এ কাউন্সিলকে।

টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের সাবেক ওই কর্মকর্তা বলেন, বন্দিশিবিরে যাওয়া এড়াতে ভ্যান ডেন বার্গের সব সুরক্ষা হাতছাড়া হয়ে যায়। নিজের ও স্ত্রীর নিরাপত্তার জন্যই এমনটি করেছিলেন তিনি। তবে এক ইহুদির সঙ্গে আরেক ইহুদি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিষয়টি মানতে কষ্ট হয়েছিল তাদের। তবে তারা অবাক হয়েছেন এটা জেনে যে, আনার বাবা ওটো ফ্রাঙ্ক বিশ্বাসঘাতকের সম্পর্কে জানতেন। তবে চেপে গিয়েছিলেন তিনি। আটক হওয়ার আগেই ওটো ফ্রাঙ্কের কাছে পরিচয়হীন একটি চিরকুট এসেছিল। ভ্যান ডেন বার্গই যে বিশ্বাসঘাতক, তা জানিয়ে দিতেই ওই চিরকুট পাঠানো হয়। এদিকে এর কয়েক বছর পর ১৯৫০ সালে ভ্যান ডেন বার্গের মৃত্যু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত