পথে পথে ভাড়া নৈরাজ্য

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০১:২৩ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ঘিরে আশপাশের সড়কে চলাচলকারী পরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছেই। ভুলতার গোলাকান্দাইল মোড় থেকে মীরের বাজার কিংবা কাঞ্চন সেতু, সেখান থেকে কুড়িল। উভয় সড়কে যানবাহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তিন থেকে চারগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রাত হলে ভাড়া আরও বেড়ে যায় বলে মেলার দর্শনার্থীরা অভিযোগ করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাণিজ্যমেলা পর্যন্ত ৩০টি বাস চলাচল করে। দিন গড়ানোর সঙ্গে মেলায় দর্শনার্থী কয়েকগুণ বাড়লেও বাস একই থাকছে।

ফলে বাস কাউন্টারে দীর্ঘলাইন লেগেই থাকছে। বাসের পরিবর্তে সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা ইজিবাইকে গন্তব্যে যেতে গিয়ে গলাকাটা ভাড়া দিতে হচ্ছে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত ভাড়া ৩০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। একইভাবে ভুলতা থেকে কাঞ্চনে ২৫ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ১০০ টাকা। দিনভর চালক এভাবে ভাড়া নিলেও সন্ধ্যার পর তা তিন থেকে চারগুণ বেড়ে যায়।

মেলায় আসাদের অভিযোগ, প্রথমবার পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা বসায় তারা আগ্রহ নিয়ে আসছেন। কিন্তু পরিবহনে গলাকাটা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মেলা কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান তারা। কাঞ্চন পৌর এলাকার বাসিন্দা পিয়াল হাসান ফয়সাল বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের ১১ দফা নিষেধাজ্ঞা শুধুই নির্দেশনা। রূপগঞ্জে এর ছিটেফোঁটাও নেই। বাণিজ্যমেলাতেও ভেঙে পড়েছে বিধি।

দর্শনার্থীর ভিড় বেড়ে যাওয়ায় কর্র্তৃপক্ষও কিছু করতে পারছে না।’ অবশ্য দর্শনার্থী খলিল সিকদার বলেন, ‘মেলার স্টলে স্টলে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। আগতরা সেগুলো খুব একটা ব্যবহার করছেন না। মেলার টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইনে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। একাধিক প্রবেশপথ থাকলে ভালো হতো।’

মেলায় আসা কবি ও লেখক মাহবুব আলম প্রিয় বলেন, ‘স্থায়ী প্যাভিলিয়ন দেখতে বিভিন্ন জেলার লোকজন আসছেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আমাদেরও যাতায়াত করতে হচ্ছে। কিন্তু পরিবহন চালকরা মেলার অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কর্র্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।’ ধুলোবালি থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রামপুরা থেকে আসা ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘মেলা কর্র্তৃপক্ষের দেওয়া বিআরটিসি বাসে ভাড়া সহনীয় হলেও অন্যরা যাত্রীদের গলা কাটছে। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।’

কাঞ্চন এলাকার অটোচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সড়কে নামলেই মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের নামে লাইনম্যানকে টাকা দিতে হয়। বাড়তি খরচ ওঠাতেই ভাড়া একটু বেশি নিতে বাধ্য হচ্ছি।’

এ বিষয়ে কাঞ্চন টোল এলাকার ট্রাফিক পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাফিক সদস্যরা কোনো পরিবহন থেকে টাকা নেন না। বাণিজ্যমেলার জন্য আমরা অতিরিক্ত সময় ডিউটি করছি। চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিআরটিসির গাজীপুর ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মেলা কর্র্তৃপক্ষ চাহিদা দিলে গাড়ি বাড়ানো হবে।’ এ বিষয়ে ইপিবি সচিব ও বাণিজ্যমেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও ধরেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত