গাজীপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা গাফফার হত্যা মামলার আসামি আনারুল ইসলাম আদলতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ মাখদুমের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, টাকা ছিনিয়ে নিতে বাধা দিলে গায়ে থাকা শীতের চাদর দিয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
জবানবন্দিতে আনারুল জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গাছ কাটা শেষ হলে নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে পানিশাইলের ভাড়া বাসায় ফেরার পথে অধ্যাপক সাইদা পথে ব্যাগ থেকে তাকে কিছু টাকা দেন। এ সময়ে ব্যাগে একটি টাকার বান্ডেল দেখতে পান তিনি। পরে সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন আনারুল। তখন অধ্যাপক সাইদা বাধা দিলে তারই গায়ে থাকা চাদর দিয়েই শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।
মৃত্যু নিশ্চিত করে অধ্যাপক সাইদার ব্যাগ থেকে ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও বাসার চাবি নিয়ে মরদেহটি একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে দেন। সেখান থেকে ভাড়া বাসায় গিয়ে টাকাপয়সার খোঁজ করেন তিনি। তবে টাকাপয়সা না পেয়ে পালিয়ে শ্বশুরবাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী গিয়ে আশ্রয় নেন।
এর আগে গত শনিবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মেহিদী পাভেল তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আনারুলের। পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।
গাজীপুর মেট্রোপলিট পুলিশের উপকমিশনার (ক্রাইম-উত্তর) মো. জাকির হাসান জানান, ঝোপের ভেতর থেকে গত শুক্রবার অধ্যাপক সাইদা গাফফারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির থানায় হত্যা মামলা করেন। এর আগে আনারুলকে গত শুক্রবার সকালে গাইবান্ধার নিজ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিন দিনের রিমান্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
