এবার ডিসিদের প্রস্তাবে সম্মতি মিলছে না সরকারের

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪৪ এএম

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে যেসব লিখিত প্রস্তাব ডিসিরা দেন তা সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে দেন না সরকারের মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট সচিবরা। কিন্তু এবারের সম্মেলনে ডিসিদের দেওয়া কিছু প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।

জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। অধিবেশনেই তা নাকচ করে দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ ধরনের কমিটি ছাড়াই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদারকি চালিয়ে যেতে ডিসিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা ভূমিহীনদের জন্য সরকারের চলমান আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বহুতল ভবন নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কেন তা করা হবে না, তা সম্মেলনেই ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। ৯৯ বছরের জায়গায় এ প্রকল্পে ৩০ বছরের নীতিমালা করার প্রস্তাব করেছিলেন ডিসিরা, কিন্তু সেটাও পরিবর্তন করা হচ্ছে না।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলন শুরু হয়েছে। কভিড পরিস্থিতির কারণে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব রেখে বৈঠকে অংশ নেন তারা।

তিন দিনের এ সম্মেলনে প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বিভাগের নীতিনির্ধারকদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিসিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ নিয়েও অধিবেশন হয়।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা চেয়েছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন জেলা পর্যায়ে কমিটি করা হয়। আমরা বলেছি কমিটি করার প্রয়োজন নেই। এলাকার ভেতরে কাজ  দেখার অধিকার ডিসিদের আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ করি, চিঠি দিই। সেগুলো অনুযায়ী আপনারা কাজ করবেন। আমিও ডিসি ছিলাম। আমি মনে করি এটা প্রয়োজন নেই। যথেষ্ট দায়িত্ব ক্ষমতা তাদের হাতে আছে।’

বিদ্যমান আইনেই জেলা প্রশাসকদেরকে উন্নয়ন প্রকল্প দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া আছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক আমলা মান্নান।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, ‘বড় প্রকল্পগুলো একাধিক জেলাব্যাপীও হয়। তাই অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের নিয়ে কমিটি করে দেওয়া কঠিন।’

বৈঠকে সরকারি প্রকল্পগুলোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসকদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে দুটি প্রস্তাব রেখে আসছি। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ভূমির সাব রেজিস্ট্রারের অফিস বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন আছে, সেটার এলোকেশন অব বিজনেস পরিবর্তন করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনলে ভালো হয়। কারণ সাব রেজিস্ট্রির কার্যক্রম ভূমি অফিস রিলেটেড। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলে কাজে গতি আসবে। অপর প্রস্তাবটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে। সেটা হলো ছোট ও ক্ষুদ্র দোকানগুলোতে যেন এনবিআরের পক্ষ থেকে ভ্যাট মেশিন বা ইএফটি মেশিন দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ওইসব দোকান থেকে কিস্তিতে টাকা ফেরত নেওয়া যায়। এই মেশিন যদি সব দোকানদারকে দেওয়া হয়, তাহলে ক্রেতারা যে ভ্যাট দেন, সেটা সরকারের কোষাগারে জমা হবে। এতে সরকারের আয় বৃদ্ধি হবে।’

দ্বিতীয় অধিবেশন হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়ে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাঠামো নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ডিসিদের পক্ষে একটি প্রস্তাব ছিল বহুতল ভবন করা যায় কিনা। কেন করি না সেটা হচ্ছে যে, একটা বহুতল ভবন করতে যে টাকা খরচ হবে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর যে প্রত্যাশা বা নির্দেশনা, বাংলাদেশে মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন, ভূমিহীন থাকবে না। সেক্ষেত্রে কিন্তু ওটাকে কাস্টমাইজ করার জন্য এই প্রস্তাবটা বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। বহুতল ভবন করা মানে হচ্ছে এখানে ৫০ বছর থাকা।’

মুখ্য সচিব আরও বলেন, ছিন্নমূল পরিবারগুলোর আশ্রয়ণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এই আশা নিয়ে যে, সেখানে তারা নিজেদের অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে পারবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে না : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ডিসি সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগে আরও স্বচ্ছতা আনতে ডিসিদের দেওয়া ‘নিয়োগ পুল’ গঠনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘এটা করা যেতে পারে, ম্যানেজিং কমিটিগুলোর কাজে আরও স্বচ্ছতা নিয়ে আসতে। তারপর মাধ্যমিক শিক্ষায় উপজেলায় কোনো কমিটি নেই, সেটি তারা সাজেস্ট করেছেন।’

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়াতে ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত