দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় পদ হারানোর পর এবার দল থেকেই বহিষ্কার হলেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে পরাজয়ের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর করা চিঠিতে তাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গতকাল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকেও বহিষ্কার করা হয়েছে দলের সব স্তর থেকে।
গতকাল রাতে প্রথমে এটিএম কামালকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি নাসিক নির্বাচনে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তৈমূর আলম খন্দকারকেও বহিষ্কারের চিঠি পাঠানো হয় দলের পক্ষ থেকে।
এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক পদ ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তৈমূরকে।
গতকাল তাদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিষ্কার করা হলো। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
এ বিষয়ে এটিএম কামাল রাতে সাংবাদিকদের জানান, তিনি এমন কথা শুনেছেন। তবে এখনো চিঠি পাননি। দলের সিদ্ধান্ত হলে তিনি মেনে নেবেন। কামাল বলেন, ‘দল আমাকে পদ-পদবিতে না রাখতে পারে। কিন্তু আমার কাছ থেকে শহীদ জিয়ার আদর্শ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আমি দলের কর্মী হয়ে থাকব।’
গতকাল রাতে বিষয়টি নিয়ে তৈমূরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমাকে জনগণের জন্য মুক্ত করে দিয়েছেন। এখন আমি রিকশাওয়ালাদের কাছে ফিরে যাব। ঠেলাগাড়িওয়ালাদের কাছে ফিরে যাব। আমি গণমানুষের কাছে ফিরে যাব।’
