বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কিছু শিক্ষক।
এ সময় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষক। আমরা সম্মানের জন্য কাজ করি এবং সম্মানের জন্যই এ পেশায় এসেছি। আমরা চাষাভুষা নই যে, আমাদের যা খুশি তাই বলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ রকম ভাষা কখনোই কাম্য হতে পারে না। তারা যে ভাষা ব্যবহার করছে তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।’
তবে শিক্ষকদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু শিক্ষক এসব কথা বলছেন। অথচ তারা ভিসির কুরুচিপূর্ণ অডিও ক্লিপ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ১০/১৫ জন শিক্ষক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। আমাদের লজ্জা হচ্ছে- শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকেরা কোনো কথাই বলেননি।’
শিক্ষকদের মানববন্ধন ও বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘যেকোনো প্রাণীই তার সন্তান আক্রান্ত হলে আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রতিরোধ না-করতে পারলেও চিৎকার করে, হইচই করে, নিন্দা করে অন্তত। কিন্তু যখন 'সন্তানতুল্য' 'কোলেপিঠে করে মানুষ করা' শিক্ষার্থীরা মাইর খাইতেছিল তখন নিজেদের 'মানসম্মান' নিয়ে এই শিক্ষকগণ কোথায় ছিলেন! এ পর্যন্ত তো তাদের সাড়াশব্দ পেলাম না!
অথচ নিজেদের 'মানসম্মান' রক্ষার জন্য আজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তারা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন। এই দাঁড়ানোর নৈতিক ভিত্তিই বা তাদের থাকে কোথায়? এই দাঁড়ানোর ঘটনা কাদেরকে স্টিগ্মাটাইজ করতে ও কাকে রক্ষা করতে কাজে লাগবে সে ধারণা শিক্ষকদের ১৬ আনাই আছে বলে অনুমান করা যায়!’
ওই শিক্ষকদের শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেয়া উচিত উল্লেখ করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আব্দুল আলীম লিখেন, ‘হায়রে দুর্ভাগা দেশ! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আজ তাঁদের সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে নালিশ দিচ্ছেন জাতির কাছে! বলছি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সেখানকার কয়েকজন শিক্ষকের পাল্টা কর্মসূচি সম্পর্কে। এমন শিক্ষক সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই আছেন। তাঁরা মূলত উপাচার্যের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করেন। সাস্ট-এর শিক্ষকেরা উপাচার্যের তল্পিবাহক কিনা, জানি না, তবে তাঁরা ছাত্রদের বিরুদ্ধে জাতির কাছে যে নালিশ দিলেন, তা যে ভিসিবিরোধী আন্দোলন থেকে দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরানোর জন্য, এটা স্পষ্ট বোঝা গেলো। তাঁদের বক্তব্য যে বিশ্বাসযোগ্য নয়, তা সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম ইতিমধ্যেই জানান দিচ্ছে। নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে নালিশ দেয় কেবল ব্যর্থ পিতা-মাতা। এসব শিক্ষকের ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেওয়া উচিত!
ছাত্রনেতা ও অ্যাকটিভিস্ট প্রদীপ মার্ডী লিখেন, ‘এই লায়লা আন্টিগো বেতন কার টাকায় হয়? উনার বাপের বাড়ির টাকা নাকি? এহেন অকৃতজ্ঞ কীটদের ঘর চলে এই চাষা-ভুষাদের ঘাম ঝরানো টাকায়, সরকার আসমান থেকে টাকা পয়দা করে না। উনারে কেউ তথ্য খানা এসএমএস করি দিয়েন...।’
