ক্রেডিট কার্ড ক্লোন বিদেশির

বাংলাদেশে ধরা পড়ার আগে ৪০ দেশে প্রতারণা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৪৭ এএম

ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করে ধরা পড়েছেন তুরস্কের এক নাগরিক। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান-১ থেকে তাকে বাংলাদেশি এক সহযোগীসহ আটক করা হয়। হাকান জানবুরকান (৫৫) নামে এই বিদেশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, সৌদি আরব ও স্পেনসহ প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ক্লোন করে অর্থ হাতিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গতকাল বুধবার পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ এসব তথ্য জানিয়েছে।

হাকানের বাংলাদেশি সহযোগীর নাম মো. মফিউল ইসলাম। দুজনের কাছ থেকে পাঁচটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনসেট, একটি ল্যাপটপ, ১৫টি ক্লোন কার্ডসহ ১৭টি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এ দুজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি জানান, ভারতে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন হাকান জানবুরকান। চলতি বছর ২-৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন বুথে গিয়ে ক্লোন করা কার্ড দিয়ে শতাধিকবার টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। বিষয়টি ইস্টার্ন ব্যাংক জানতে পারে। তারা বিষয়টা পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ হাকানকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, তুরস্কের এ নাগরিক একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে এসেছেন। ২০১৬, ’১৮, ’১৯ ও ২০২০ সালেও বাংলাদেশে আসেন হাকান জানবুরকান। তখনো তার উদ্দেশ্য ছিল বুথ থেকে টাকা তুলে নেওয়া। সে সময় বাংলাদেশে এসে মফিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই মফিউলের ভাই একই অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে ভারতের কারাগারে রয়েছেন।

সিটিটিসি প্রধান জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর তুরস্কের ওই নাগরিক বাংলাদেশে এসে পল্টনে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। এরপর ২-৪ জানুয়ারি ইস্টার্ন ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে গিয়ে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে টাকা ওঠানোর চেষ্টা করেন।

আসাদুজ্জামান আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জানবুরকান জানান, ভারতের আসামে পল্টন বাজার পুলিশ স্টেশনে এটিএম জালিয়াতি মামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন তারা ভারতের বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে প্রায় ১০ লাখ রুপি আত্মসাৎ করেন। কারাগারে থাকার সময় হাকান আসামের জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন কারারক্ষীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। পরে ভারতীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় দুই লাখ রুপির বিনিময়ে সিকিম হয়ে নেপাল যান। সেখান থেকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নিজ দেশে ফিরে যান। পরে নিজ দেশে নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন।

হাকানকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিটিটিসি প্রধান জানান, এই চক্রে একাধিক বাংলাদেশি, তুরস্ক, বুলগেরিয়া, মেক্সিকো, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক জড়িত রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশি সহযোগী শহিদুল ইসলামসহ হাকান গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। শহিদুল এখনো ভারতের কারাগারে রয়েছেন। তার ভাই মফিউল ইসলাম। তারা সবাই মিলে এই এটিএম কার্ড ক্লোনিং করে থাকেন।

সিটিটিসি কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

কোন ভিসায় হাকান জানবুরকান বাংলাদেশে এসেছিলেন জানতে চাইলে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তিনি ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। তার একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি একেকবার একেক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত