বিএনপি নয়, সরকার অপকর্ম ঢাকতে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দাবি করে বলেছেন, ‘সরকার বলছে বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। সরকারের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।’ গতকাল বুধবার দুপুরে শেরেবাংলা নগরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাংবাদিকদের তিনি এ দাবি করেন।
ড. মোশাররফ বলেন, ‘যখন আমেরিকা থেকে একটি সংস্থা এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, যখন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সামিটে দাওয়াত পায় না, তখন কিন্তু এই কথাগুলো উঠছে। আমাদের প্রশ্ন, আগে কেন এ কথা উঠল না। গণমাধ্যমে এসেছে আওয়ামী লীগ এদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, চুরি ডাকাতি করে অর্থ লুণ্ঠন করছেএগুলো যাতে ধামাচাপা দেওয়া যায়, সেজন্য গত ১৪ বছর ধরে বিদেশে তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে।
তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সরকার কতগুলো ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ডকুমেন্ট দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের কথা বলছে। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরব।’
তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ ১৯৭১ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন গণহত্যা শুরু করে তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তৎকালীন মেজর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রিভল্ট করেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ক্ষমতায় এসে বাকশাল বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে উনিশ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতি যে তিনটি খুঁটির ওপর দ-ায়মান, সে তিনটি খুঁটি জিয়াউর রহমান স্থাপন করে গেছেন। সেগুলো হলোকৃষিতে বিপ্লব, বিদেশে শ্রমিক পাঠানো ও রপ্তানিমুখী পোশাক খাত, যা তৈরি করেছিলেন তিনি।’
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দেশে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আজকে যারা ক্ষমতায় তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিয়েছে। আজকে দেশে মানবাধিকার নেই। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এই সরকার বিদেশে বদনাম অর্জন করেছে। গণতান্ত্রিক সামিটে বাংলাদেশ আমন্ত্রণ পায়নি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশ আজকে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে চলছে।’
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে আমাদের নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি। বানোয়াট মামলায় একটি নির্দেশিত রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন। আজকে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। বিদেশে চিকিৎসা করতে যাওয়ার যে মানবিক অধিকার সেটা থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমরা দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব।’
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। শুধু তাই নয়, আমরা নির্বাচনে যাব না, বরং প্রতিহত করব।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
