এক বছরেরও বেশি সময় পর মাঠে ফিরে দারুণ বল করলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। নিলেন জোড়া উইকেট। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে হাসতে পারল না তার দল মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। তাদের দেওয়া ছোট্ট পুঁজি সহজেই পেরিয়ে সিলেট সানরাইজার্স পেল আসরের প্রথম জয়।
বিপিএলে মঙ্গলবারের প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন ঢাকাকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনের সিলেট। ১০১ রানের লক্ষ্য তারা পেরিয়ে গেছে ১৮ বল হাতে রেখেই।
লেন্ডল সিমন্স ও এনামুল হক বিজয় সাবধানী শুরু করেছিলেন। সিমন্সেকে ইনিংসের চতুর্থ ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফিরিয়ে দেন মাশরাফী। তবে আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয় পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে দারুণ ব্যাটিং করেছেন।
দ্বিতীয় উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৩৮ ও তৃতীয় উইকেটে কলিন ইনগ্রামের সঙ্গে ৪০ রানের জুটিতে সিলেটের জয় নিশ্চিত করে ফেরেন বিজয়।
মাশরাফীর দ্বিতীয় শিকার হয়ে বিজয় যখন ফেরেন, সিলেট তখন জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে। ৪৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৫ রান করেন বিজয়। কলিন ইনগ্রাম ১৯ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ২১ রান করেন। সিমন্স ২১ বলে ১৬ ও মিঠুন ১৫ বলে ১৭ রান করেছেন।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের পর মাঠে ফেরা মাশরাফী ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় নিয়েছেন ২ উইকেট। অন্য উইকেটটি নেন হাসান মুরাদ।
এর আগে সিলেটকে জয়ের মঞ্চ তৈরি করে দেন বোলাররা। দারুণ বল করেছেন তাদের তিন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু, সোহাগ গাজী ও মোসাদ্দেক হোসেন। পেসার তাসকিন আহমেদও ছিলেন দুর্দান্ত।
১৭ রানে ৩ উইকেট হারানো ঢাকা তাই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি কখনোই। ১৮.৪ ওভারে ১০০ রানেই থামে তাদের ইনিংস।
মাহমুদউল্লাহ ২৬ বলে ৩৩, শুভাগত হোম ১৬ বলে ২১, মোহাম্মদ নাঈম ৩০ বলে ১৫ ও রুবেল হোসেন ৬ বলে ১২ রান করেন।
সিলেটের পক্ষে নাজমুল ইসলাম অপু ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ১৮ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাসকিন ২.৪ ওভারে ২২ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। সোহাগ গাজী ১৭ রানে ২টি ও মোসাদ্দেক ১২ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। ম্যাচসেরা হয়েছেন অপু।
হার দিয়ে আসর শুরু করা সিলেট দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াল। তবে ২ ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে ছয় দলের মধ্যে পঞ্চম স্থানে তারা।
অন্য দিকে টানা দুই হারে আসর শুরু করা ঢাকা একদিন আগে ফরচুন বরিশালকে হারিয়ে আসরে প্রথম জয় পায়। কিন্তু পরের ম্যাচেই হার তাদের। চার ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে তারা। তিন ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
