দিনাজপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কিটে করোনা পরীক্ষা

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৫৭ এএম

দিনাজপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কিট দিয়ে করোনা শনাক্তের পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা পরীক্ষার বুথে নমুনা দিতে গিয়ে এক ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ কিট দেখতে পাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ কিট দিয়ে নমুনা সংগ্রহ বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলাটিতে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের আরও ৮ হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ কিট রয়েছে। সেখানে মেয়াদ থাকা কিটের পর্যাপ্ত মজুদ নেই। এমন পরিস্থিতিতে নতুন চালান দ্রুত না এলে যেকোনো সময় করোনা পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জানা গেছে, গতকাল সকালে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের বুথে নমুনা দিতে যান বেসরকারি একটি ক্লিনিকের এক কর্মকর্তা। এ সময় বুথে নমুনা পরীক্ষার মেয়াদোত্তীর্ণ কিট দেখতে পান তিনি। বিষয়টি ওই ব্যক্তি বুথে দায়িত্বরতদের অবহিত করলে তারা অফিসে অভিযোগ করতে বলেন। পরে ওই ভুক্তভোগী বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানালে তারা হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানার সঙ্গে কথা বলেন। পরে মাসুদ রানা হাসপাতালের করোনা পরীক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্যাথলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আরাফাত হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ ওই কিটের প্যাকেট সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ কিটের আরও প্যাকেট রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ কিটের প্যাকেট চিহ্নিত করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ব্যক্তি অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালে হাসপাতালে নমুনা দিতে এসে দেখি কিটের প্যাকেটের মেয়াদ গত বছর শেষ হয়ে গেছে। শুধু আমিই নয়, এখানে আসা শতাধিক ব্যক্তির কাছে কিটের মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেট পাওয়া যায়। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক দায়িত্বরদের জানালে আমাকে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে বলা হয়। এরপর আমি বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে প্রশাসন মেয়াদোত্তীর্ণ কিট দিয়ে নমুনা নেওয়া বন্ধ করে দেয়। করোনার নমুনা নেওয়ার ক্ষেত্রে কিটের মেয়াদ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের আগেই দেখা উচিত ছিল।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আরাফাত হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহে ৩ হাজার পিস করোনার কিট সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল। সেগুলো পরে দেখা যায় মেয়াদোত্তীর্ণ। আমরা সেগুলো ফেরত পাঠিয়েছি। হয়তো ভুলবশত তারই মধ্যে ওই কিটটি অন্যগুলোর সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। আরও কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ কিট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।’

দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জেলায় ৫ হাজার পিস করোনার নমুনা সংগ্রহের কিট পাঠানো হয়। ওই চালানের কার্টন খুলে দেখা যায়, ২০২১ সালের জুলাই মাসেই কিটগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এর আগে গত সপ্তাহে পাঠানো ৩ হাজার পিস কিটেরও মেয়াদ ছিল না, সেগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসেই। দপ্তরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব কিট দিয়ে করোনা পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এসব কিট ব্যবহার করা হবে কি না, এমন সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। যদি এসব কিট ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত আসে কিংবা নতুন করে কিট না আসে, তাহলে জেলায় করোনা পরীক্ষা যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ এইচ এম বোরহান উল সিদ্দিকী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৮ হাজার পিস কিট এসেছে যেগুলোর প্যাকেট খুলে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিটের প্যাকেটের ওপরে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা জুলাই মাস। তবে ভেতরে থাকা সোয়াব স্টিকে মেয়াদ লেখা ছিল না। আবার ভেতরে থাকা টাঙ্ক ডিপ্রেসরে কোনো কোনোটির মেয়াদ রয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, তবে সবগুলোর নয়। এখন এসব কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষা হবে কি না, জানতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। যদি এসব ধ্বংস করে দেওয়া হয় কিংবা ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে এই মুহূর্তে দিনাজপুরে করোনা পরীক্ষার জন্য কিটের পর্যাপ্ত মজুদ নেই। ফলে করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত