খুলনা বিভাগে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা। বিভাগের জেলাগুলোর ঘরে ঘরে মানুষের সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও জ¦র। তারপরও করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অনীহা তাদের অধিকাংশেরই। খুব বেশি অসুস্থ না হলে কেউ করোনা পরীক্ষা করতে যাচ্ছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আশপাশের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার মধ্যে সমাধান খুঁজছেন তারা। এছাড়া করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে দেওয়া সরকারি নির্দেশনা কোথাও মানতে দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসচেতনতায় নতুন করে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদের দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা) খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৮০ জনের। একই সময়ে কুষ্টিয়ায় করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে ৭১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, অনেকেই নমুনা দিতে ঝামেলা ও করোনা শনাক্ত হলে সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। জ¦র, সর্দি ও কাশি থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে বেশিরভাগ মানুষই ফার্মেসিতে গিয়ে শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে ওষুধ কিনে নিচ্ছেন। ফলে ফার্মেসিগুলোতেও কদর বেড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ এইস পাওয়ার, নাপা, নাপা-এক্সট্রা, হিস্টাসিন ও দামি অ্যান্টিবায়োটিকের।
সর্দি, কাশি ও জ¦র নিয়েই ইজিবাইক চালাচ্ছেন নগরীর টুটপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। উপসর্গ থাকলেও করোনা পরীক্ষা না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি গতকাল বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে হালকা জ¦র ও কাশি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে সর্দিও হচ্ছে। করোনার কারণে এসব হচ্ছে না। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে। পরীক্ষা করালে করোনা ধরা পড়লে আশপাশের কেউ আর কথা বলবে না। নানারকম সমস্যা হবে। তাই পরীক্ষা করাচ্ছি না। জ¦রের ওষুধ খাচ্ছি।’
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৮৮০। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যশোর। এ জেলায় সর্বোচ্চ ২২৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ১৮৯, কুষ্টিয়ায় ১২০, ঝিনাইদহে ৮৬, চুয়াডাঙ্গায় ৭৮, সাতক্ষীরায় ৭১, বাগেরহাটে ৩৫, মাগুরায় ৩৩, নড়াইলে ২২ ও মেহেরপুরে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষায় মোট নমুনার মধ্যে ৩০ দশমিক ৬৭ শতাংশের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৩৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
খুলনা ২০০ শয্যা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকালপারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে ৬, রেড জোনে ৪ এবং ইয়েলো জোনে ১৬ জন চিকিৎসাধীন। করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই জানিয়ে খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ কারণে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে সর্দি, কাশি ও জ¦র দেখা দিলে সবারই নমুনা পরীক্ষা করা উচিত। কারণ আমার দ্বারা অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে বা অন্য কোনো মায়ের বুক খালি হতে পারে। তাই নিজের নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি একে অন্যকে উৎসাহিত করা উচিত।’
