লাল-সবুজ জার্সিতে খেলার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন এলিটা কিংসলে। নাইজেরিয়ান এই ফরোয়ার্ডের হাতে আছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র। তারপরও জাতীয় দলের দরজাটা খুলছে না। ফিফার কাছ থেকে সরাসরি অনাপত্তিপত্র না মেলায় এলিটাকে জাতীয় দলে নেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ বাফুফের জন্য। ফলে এলিটার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যেতে পারে। আর জাতীয় দলের দরজা না খুললে এই ফরোয়ার্ডকে আগামী মে-তে এএফসি কাপেও খেলাতে পারবে না বসুন্ধরা কিংস।
এলিটা ২০১১ সালে প্রথম আসেন বাংলাদেশে খেলতে। খেলেছেন আরামবাগ, বিজেএমসি, মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম আবাহনীর মতো দলে। গত মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের জার্সিতে মাঠ রাঙিয়েছিলেন। এদেশে দীর্ঘদিন খেলা ও এদেশের নাগরিক বিয়ে করার সুবাদে নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন অনেক আগে। সেটা পেয়েও গেছেন বছর দুই হলো। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পর এলিটাকে জাতীয় দলে খেলানোর পরিকল্পনা করেছিল বাফুফে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাথমিক দলেও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ফিফার কাছে করা আবেদনে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে অন্য দেশের হয়ে খেলতে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। যার মধ্যে পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব ছেড়ে আসা দেশের ফুটবল সংস্থার অনাপত্তিপত্র পাওয়া অন্যতম। এছাড়া যে দেশের হয়ে খেলতে চান, সে দেশে টানা পাঁচ বছর ঘরোয়া ফুটবল খেলার প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে হয়। এ সব শর্ত মেনেই বাফুফে তার জন্য আবেদন করেছিল ফিফার কাছে। কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলের অবকাঠামোয় গলদ থাকায় প্রথম আবেদনে ফিফা ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফিফার প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটি এসব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পঞ্জিকাকে (মৌসুম শুরু ও শেষের তারিখ) বেশি গুরুত্ব দেয়। সেই খেলোয়াড় যাতে পুরো মৌসুম খেলে এবং সে দেশে অবস্থান করে এসব বিষয়ে বেশি জোর দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবল লিগের শুরু ও শেষের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। আবার নানা অজুহাতে লিগ বন্ধের মতো ঘটনা ঘটে অহরহ। যে কারণে এলিটার টানা খেলার প্রমাণগুলো বিশ্বাসযোগ্য হয়নি প্রথমে। পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে ফিফার কাছে পাঠিয়েছিল বাফুফে। সেগুলো দেখে ফিফা গত নভেম্বরে জানিয়েছে, বাফুফে চাইলে নিজ ঝুঁকিতে এলিটাকে খেলাতে পারে। তবে খেলানোর পর তাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে সেটা খ-াতে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ স্থাপন করতে হবে। ব্যর্থ হলে পুরো ফেডারেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন খড়গ নেমে আসতে পারে। বাফুফের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, ‘এলিটার বয়স হয়ে গেছে। বড়জোড় এক-দুই বছর সার্ভিস দিতে পারবে। এ অবস্থায় যদি তাকে খেলাতে গিয়ে কোনো অভিযোগ ওঠে এবং বাফুফে যদি সেটা খ-াতে না পারে, তবে বড় ধরনের শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তাই এটা অনেক বড় সিদ্ধান্ত। আর সেটা বাফুফের নির্বাহী কমিটিকেই নিতে হবে।’
বাফুফের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে বসুন্ধরা কিংসও। গেলবার তাকে মালদ্বীপে নিয়ে গিয়েও অনুমতি না মেলায় এএফসি কাপে খেলাতে পারেনি ক্লাবটি। এ নিয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে কথা বলারও কোনো অধিকার নেই তাদের। তাই এলিটা যতক্ষণ না পর্যন্ত লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চড়াতে পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিংসও পারবে না তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলাতে।
