জানুয়ারিতে এক দিনও নির্মল বায়ু পায়নি ঢাকা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৫১ এএম

রাজধানীতে বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েছে বায়ুদূষণ। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ঢাকায় গড় বায়ুদূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ কারণেই বছরটিতে ঢাকাবাসী খুব কম সময়ের জন্য ভালো মানের বায়ু গ্রহণ করতে পেরেছেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক দিনও ভালো বায়ু গ্রহণ করতে পারেনি ঢাকাবাসী। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজের কারণেই দূষণের এই ভয়াবহ অবস্থা বলে জানিয়েছে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘বিপজ্জনক মাত্রায় ঢাকার বায়ুদূষণ : জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপসের এই গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। তিনি জানান, ২০২১ সালে ঢাকা শহরের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করা হয়। তাতে দেখা গেছে ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য নির্মাণ খাত ৩০ শতাংশ দায়ী। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ হচ্ছে ইটভাটা ও শিল্পকারখানার মাধ্যমে। যার হার ২৯ শতাংশ। বায়ুদূষণের তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ হলো যানবাহনের কালো ধোঁয়া, যার শতকরা হার ১৫ শতাংশ।

শরীফ জামিল বলেন, ‘ঢাকা নগরের বায়ুর মান ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে হতে বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গেছে। অথচ নাগরিকদের অবগত করছে না সরকার। এ ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা আছে কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

অবিলম্বে সরকারকে ঢাকা শহরের বায়ু সম্পর্কে যথাযথ তথ্য যথাসময়ে সাধারণ মানুষকে অবগত করার দাবি জানান তিনি।

ঢাকার বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে ক্যাপসের পরিচালক অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল এই পাঁচ বছরের থেকেও ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৭ শতাংশ। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সূচক ২১৯.৫৯ এসে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসে ঢাকার মানুষের এক দিনের জন্যও ভালো বায়ু সেবন করার সৌভাগ্য হয়নি। বায়ুমান বেশিরভাগ সময় খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল।

ঢাকা শহরের ১০টি স্থানের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ২০২১ সালে ঢাকা শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত ছিল তেজগাঁও এলাকা। এখানে প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে বস্তুকণা ছিল ৭০ মাইক্রোগ্রাম। এর পরের অবস্থানে ছিল শাহবাগ এলাকা। এখানে প্রতি ঘনমিটারে বস্তুকণা ছিল ৬৮ মাইক্রোগ্রাম।

গবেষণায় অনুযায়ী, এরপর আহসান মঞ্জিল, আবদুল্লাহপুর, মতিঝিল, ধানমন্ডি-৩২, সংসদ ভবন, আগারগাঁও, মিরপুর-১০ এবং গুলশান-২ এই এলাকাগুলোর বায়ুতে গড় বস্তুকণা প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৫৭, ৬২, ৬০, ৬৩, ৫৯, ৬১, ৬৬ এবং ৬৫ মাইক্রোগ্রাম ছিল। প্রতিটি স্থানেই গড় বস্তুকণা নির্ধারিত মানমাত্রার (২ দশমিক ৫) কয়েকগুণ বেশি ছিল।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাপার নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এস সিদ্দিকী, ইবনুল সাঈদ রানা, ক্যাপসের গবেষণা শাখার প্রধান আব্দুল্লাহ আল নাঈম এবং যুব বাপার সদস্য সচিব রাওমান স্মিতা বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত