মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে নাঈম ইসলামকে অধিনায়ক করার ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
উইল জ্যাকস ও বেনি হাওয়েলের ঝড়ে চলতি বিপিএলে প্রথম দল হিসেবে দু শ ছাড়ানো পুঁজি গড়ে চট্টগ্রাম। এনামুল হক বিজয় ও কলিন ইনগ্রামে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল সিলেট সানরাইজার্স। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর হ্যাটট্রিকে তাদের সব সম্ভাবনা মিলিয়ে যায়। দারুণ এক জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।
বন্দর নগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শনিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬ রানে জিতেছে চট্টগ্রাম। তাদের দেওয়া ২০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৬ রানে থামে সিলেটের ইনিংস।
১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেন মৃত্যুঞ্জয়। ফেরান সিলেটের হয়ে সবচেয়ে সফল এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও রবি বোপারাকে। অথচ প্রথম দুই বলে ১০ রান তুলেছিলেন এনামুল।
তখনো যে টুকু সম্ভাবনা ছিল সিলেটের, মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকে তা শেষ হয়ে যায়।
৪৭ বলে ৭৮ রানে কাটা পড়া বিজয় ৯ চার ও ৩ ছক্কায় সাজিয়েছেন নিজের ইনিংস। ইনগ্রাম ৩৭ বলে ৫০ রান করেছেন ৫ চার ও ২ ছক্কায়।
চট্টগ্রামের পক্ষে মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিক ছাড়াও দারুণ বল করেছেন নাসুম আহমেদ। ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রামের পক্ষে জ্বলে ওঠেন ওপেনার ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস। প্রথম ওভারে ৬ রান তুললেও, পরের তিন ওভারে যথাক্রমে- ১২, ১৫ ও ১৯ রান তোলেন জ্যাকস ও আরেক ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেনার লুইস। এতে চতুর্থ ওভারেই দলীয় ৫০ রানে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম।
লুইস ছিলেন একেবারেই সতর্ক মুডে। তাই জ্যাকস যখন ১৫ বলে ৪২ রানে দাঁড়িয়ে, তখন লুইসের রান ৯ বলে ৪ রান। পঞ্চম ওভারের প্রথম তিন বলে ১০ রান তুলে মাত্র ১৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরিতে পা রাখেন জ্যাকস।
হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের ডেলিভারিতে সিলেটের পেসার তাসকিন আহমেদের বলে শর্ট ফাইন লেগে লেন্ডন সিমন্সকে ক্যাচ দেন জ্যাকস। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন জ্যাকস।
জ্যাকস ফেরার ৪ বল পর থামেন লুইসও। সিলেটের স্পিনার সোহাগ গাজীর বলে আউট হওয়া লুইস ৮ রান করেন।
এরপর দলের বড় স্কোরের ভিত গড়েন আফিফ হোসেন ও সাব্বির রহমান। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তারা। এতে বড় স্কোর গড়ার পথ পায় চট্টগ্রাম।
উইকেটে জমে যাওয়া আফিফ ও সাব্বিরের জুটি ভেঙে ১৩তম ওভারে সিলেটকে দারুণ এক ব্রেক-থ্রু এনে দেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক। ২৯ বলে ৩১ রান করেন সাব্বির। তৃতীয় উইকেটে ৪৫ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তারা।
১৩তম ওভারে সাব্বির আউট হওয়ার পর মারমুখী হয়ে ওঠেন আফিফ। মুক্তার আলি-রবি বোপারার করা ৪ বল খেলে ১৭ রান তোলেন তিনি। বোপারাকে ছক্কা মারার পরের ডেলিভারিতে বোল্ড হন আফিফ। তার আগে ২৮ বলে ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৮ রান করেন।
এরপর চট্টগ্রামের নতুন অধিনায়ক নাঈম ইসলাম ৮ রানে থামলেও, ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ইংল্যান্ডের বেনি হাওয়েল ও চট্টগ্রামের হয়ে প্রথম ৪ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মেহেদি হাসান মিরাজ। এ ম্যাচের আগে যাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। হাওয়েল-মিরাজ ঝড়ে শেষ ২৮ বলে ৬৫ রান তুলে চট্টগ্রাম। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০২ রানের সংগ্রহ পায় দলটি। এবারের বিপিএলে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় রান।
২১ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৪১ রান করেন হাওয়েল। ৪ বলে ২টি ছক্কায় অপরাজিত ১৩ রান করেন মিরাজ।
পেসার তাসকিনের করা শেষ ওভার থেকে ২২ রান নেন হাওয়েল ও মিরাজ। সিলেটের পাঁচ বোলার ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।
