সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৪০ বছরের ঊর্ধ্বে সবাই বুস্টার ডোজ পাবেন

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ০২:১০ এএম

এখন থেকে ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে সবাই বুস্টার ডোজের টিকা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, দেশে ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে বুস্টার ডোজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুস্টার ডোজ গ্রহণে সে রকম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য এখন থেকে ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে বুস্টার ডোজ দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। একই সঙ্গে ১২ বছরের ঊর্ধ্বে স্কুলগামী বা অন্যান্য শিশুকেও ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

গতকাল রবিবার মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) প্রাঙ্গণে করোনার বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৯ কোটি ৭০ লাখ প্রথম ডোজের টিকা দিয়েছি। ৬ কোটির বেশি দিয়েছি দ্বিতীয় ডোজ। আমরা এ মাসে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি। মোট ১৫ কোটি ৭০ লাখ টিকা দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সাড়ে ১২ কোটি লোককে টিকা দেওয়া, অর্থাৎ আমাদের আরও আড়াই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া বাকি রয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা দিতে গিয়ে দেখেছি, লোক কম আসছে। আমরা ওয়ার্ড পর্যন্ত গেছি, টিকা কার্যক্রম নিয়ে। সেখানে সেই হারে লোক পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা কার্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনÑবাস মালিক সমিতি, দোকান সমিতি, রেস্টুরেন্ট সমিতিকে চিঠি দিয়েছি। এসব খাতে যারা কাজ করে, তাদের অনেকে এখনো টিকা নেয়নি। অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে আমরা সভা করব যেন ওই আড়াই কোটি লোককে আমরা টিকা দিতে পারি।’

আক্রান্তের সংখ্যা বহু গুণ বেশি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘করোনার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শনাক্তের চেয়ে আরও বহু গুণ বেশি। সবাই পরীক্ষা করাচ্ছে না। আক্রান্তের সংখ্যা আমি মনে করি আরও বহু গুণে বেশি। এমনকি ওমিক্রন “মৃদু” বলে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছে বেশির ভাগ আক্রান্ত মানুষ। আমরা বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি, সে কারণে আমরা অন্যদেরও সংক্রমিত করছি। স্বাস্থ্যবিধি মানা, নিজেকে সুরক্ষিত করা, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা, দেশের সবাইকে সুরক্ষিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনার সংক্রমণ বাড়বেই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখছি, কক্সবাজারে যাচ্ছে, বাণিজ্যমেলায় যাচ্ছে, বিয়ে হচ্ছে, কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। তাহলে তো সংক্রমণের হার বাড়বেই! দপ্তরগুলো অর্ধেক লোকবল দিয়ে চালানোর কথা বলেছি, অথচ বাইরে আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি, মাস্ক পরছি না। আমরা টিকা দিচ্ছি, মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। আমাদের সব কর্মসূচি সফল হবে যদি জনগণ সাহায্য করে। জনগণ এগিয়ে আসে, স্বাস্থ্যবিধি মানে। জনগণ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে, তাহলে আমরা সংক্রমণ-মৃত্যুর হার কমাতে পারব না। ওমিক্রন মৃদু বলে উড়িয়ে দিলে চলবে না। মেলা, কক্সবাজারে দেখি বাচ্চাদের নিয়ে যাচ্ছে। স্কুল বন্ধ এদিকে আর ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছে। এ জিনিসটা কিন্তু দুঃখজনক। অভিভাবকদের বলব, এ বিষয়ে আপনারা খেয়াল করেন। বাচ্চারাও সংক্রমিত হচ্ছে। কাজেই তাদের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’

করোনায় আক্রান্তের হার প্রায় ২০ গুণ বেড়ে গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, পৃথিবীতে যেভাবে ওমিক্রন ছড়িয়ে গেছে, বাংলাদেশেও ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার লোক আক্রান্ত হচ্ছে, আগে ছিল মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০; অর্থাৎ আক্রান্তের হার প্রায় ২০ গুণ বেড়ে গেছে, এটা আশঙ্কাজনক। যেহেতু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে, মৃত্যুর হারও বাড়বে। আমরা বলে থাকি মৃদু কিন্তু সঠিক নয়। এ ধরনের মানসিকতা থাকলে সংক্রমণ বাড়বে, মৃত্যু বাড়বে। হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সংক্রমণ আমাদের কমিয়ে রাখতে হবে। লাগাম টেনে ধরে রাখতে হবে। না হলে আগামী দিনে মৃত্যুর হার আরও অনেক বাড়বে।

১৪ দিনের পরিবর্তে ১০ দিন আইসোলেশন : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বুলেটিনে সংস্থাটির মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৪ দিনের পরিবর্তে ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা যাবে। জ্বর ভালো হয়ে গেলে, উপসর্গগুলো চলে গেলে ১০ দিন পরে তিনি আবার কাজে ফিরে যাবেন। আগে শর্ত হিসেবে আরটি-পিসিআর সনদ নিয়ে যেতে হতো, সেটি আপাতত আমরা স্থগিত রেখেছি।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ওমিক্রনের উপসর্গগুলো হলো, নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথাব্যথা, অবসন্নতা, হাঁচি, গলাব্যথা, কাশি এ বিষয়গুলো কারও থাকলে পরীক্ষা করাতে হবে। ঠান্ডা লেগে কারও গলা ভেঙে গেছে বা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে, সেসব ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে যার প্রয়োজন তাকে হাসপাতালে যেতে হবে, যার ক্ষেত্রে বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব তিনি সেভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। যারা আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, করোনায় আক্রান্ত হলে তারা অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

করোনা শনাক্ত হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন : অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার ছয় মাস পরই শুধু বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে। ইতিমধ্যে দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, এমন ব্যক্তিরাই বুস্টার ডোজ হিসেবে তৃতীয় ডোজ পাচ্ছেন। যারা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর বুস্টার ডোজের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, যাদের কাছে এসএমএস এসেছে, তারা যদি করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে নিতে না পারেন, তাহলে করোনা শনাক্ত হওয়ার ছয় সপ্তাহ পরে বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত