জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কেকের বদলে পাউরুটি কেটে ফেইসবুকে লাইভের ঘটনায় অবমাননার অভিযোগে রাজশাহীর দুই মাদ্রাসাশিক্ষককে কারাদণ্ডের বদলে শাস্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর তিনটি বই পড়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাদের প্রবেশন মঞ্জুর করে গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান।
দোষীসাব্যস্ত দুজন হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের বৈরতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুস সালাম (৫৫) এবং সহকারী শিক্ষক গোলাম কবির (৪৮)। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য ৯ আসামিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
আদালত দোষীসাব্যস্ত দুজনকে কারাগারে না পাঠিয়ে পাঁচটি শর্তে প্রবেশন দিয়েছে। শর্ত লঙ্ঘন করলে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে তাদের। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ইসমত আরা জানান, গত বছর ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে বোয়ালিয়া বৌরতলা দাখিল মাদ্রাসায় কেকের পরিবর্তে পাউরুটি কাটা হয়। অনুষ্ঠানটি ফেইসবুক লাইভে প্রচার করেন শিক্ষক গোলাম কবির। ব্যঙ্গাত্মক এ আয়োজন ফেইসবুকে দেখে এলাকাবাসী গোমস্তাপুর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মাদ্রাসার সুপার আবদুস সালাম ও শিক্ষক গোলাম কবিরকে আটক করে। এ ঘটনায় পরে ওইদিন রাতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী। আলোচিত এ মামলায় সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
প্রবেশনের শর্তগুলো হলো প্রবেশনকালীন আসামিরা কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবে না বা একই ধরনের অপরাধ করবেন না। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের ইতিহাস সম্পর্কে নিজেরা পড়বেন এবং সহকর্মী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জানাবেন। আদালত এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তলব করলে যথাসময়ে উপস্থিত হবেন। প্রবেশনকালীন জাতির পিতার নিজ হাতে লেখা তিনটি বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়াচীন’ পড়বেন। এছাড়া জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলো’ এবং রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা ‘একাত্তরের চিঠি’ বই দুটি পড়বেন। এর বাইরে দণ্ডিত দুজন প্রবেশনে থাকার সময় ১০টি করে ফলজ ও ১০টি বনজ গাছের চারা রোপণ করবেন।
ইসমত আরা আরও জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা দোষীসাব্যস্ত দুজনের প্রবেশনের শর্ত মানার বিষয়টি তদারকি করবেন। এ দুই শিক্ষকের ক্ষেত্রে তিন মাস পরপর তাদের শর্ত প্রতিপালন ও অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবেশনের সময় আসামিদের কর্মকাণ্ড সন্তোষজনক হলে তাদের এ দণ্ড চাকরিসহ ভবিষ্যৎ জীবনে কোনোরূপ অযোগ্যতা বলে গণ্য হবে না বলেও আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে।
