মাঠ নিয়ে কাড়াকাড়ি অবস্থা বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মধ্যে।
আর্চার রোমান সানা, দিয়া সিদ্দিকিরা বছরজুড়ে অনুশীলন করেন টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে। যে মাঠকে এবারের প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু করেছে বাফুফে।
বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে লিগ। তাই মাঠ প্রস্তুত করতে হবে বাফুফেকে। আর সেটা করতে গিয়েই সংস্থাটি যা করেছে তা নিয়ে ক্ষুব্ধ আর্চারি ফেডারেশন।
বুধবার ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আর্চারি ফেডারেশন সভাপতি জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলামের অভিযোগ, ‘কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই আর্চারির লোকজনকে বের করে দিয়ে মাঠ দখল করেছে বাফুফে।’
এদিন বিকেলে রোমান সানা-দিয়া সিদ্দিকীরা অনুশীলনও করতে পারেনি। আর্চারির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে মাঠ ছাড়ার জন্য রীতিমতো হুমকি-ধমকিও নাকি দিয়েছেন বাফুফের এক নির্বাহী সদস্য।
এবারের প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ চলায় ফুটবলকে ঢাকার বাইরে নিতে হয়েছে। নানা নাটকের পর শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার রাতে টঙ্গী ও মুন্সিগঞ্জের স্টেডিয়ামে প্রথম লেগের খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে। কিন্তু আর্চারি ফেডারেশন বলছে, টঙ্গীতে খেলা হলে তাদের বছরজুড়ে নানা আসরের প্রস্তুতি ব্যাহত হবে।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চে টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে ৩২ দিন প্রিমিয়ার লিগের খেলা রেখে সূচি করেছে বাফুফে। সরকার যে মাঠটা ২০১৬ সালে আর্চারিকে বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় দলের ক্যাম্প ও বিভিন্ন আসর আয়োজনের জন্য।
গত বছরও টঙ্গীতে ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। তখনো আপত্তি উঠেছিল আর্চারি থেকে। পরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের হস্তক্ষেপে সমঝোতা হয়।
সেবার অবশ্য মাত্র ৫টি ম্যাচ হয়েছিল। কিন্তু এবার দুই মাসে ৩২ ফুটবল ম্যাচ হবে। আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলছেন, ‘এটা হলে আমাদের আর্চারদের প্রশিক্ষণের ৭৫ ভাগ সময় নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের খেলা চালাতে সরকার, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও স্পনসররা টাকা দেয়। তাদের কাছে কী জবাব দেব? বিষয়টি আমি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি দেখবেন।’
বুধবার কোনো কিছু না জানিয়ে বাফুফে মাঠ দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি। বলেন, ‘ফোন পেয়ে মাঠে গিয়ে দেখি বাফুফের লোকজন মাঠে রোলার দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর বাফুফের এক নির্বাহী সদস্য আমার সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিলেন। আমি তাকে বোঝাতে পারলাম না যে, এখানে ফুটবল চালাতে হলে সরকারের নির্দেশনা মেনে আর্চারির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। কিন্তু তিনি কোনো কথা না শুনে উল্টো হুমকি দিয়ে বললেন, এখানে ফুটবল চলবেই, আপনি যা করার থাকে করুন। বাফুফের পক্ষ থেকে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। বাফুফে একটিবার আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রয়োজন মনে করেনি।’
বিস্মিত ও হতাশ আর্চারির জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখও, ‘সবকিছুই আমার কাছে রসিকতা মনে হচ্ছে। ৩১ তারিখ চিঠি দিয়ে বাফুফে জানাল এখানে বড় একটা সময় তারা খেলা চালাব। আমাকে বাধ্য হয়ে আজ ক্যাম্প বাতিল করতে হয়েছে। কোনো সমন্বয় নেই। অবিশ্বাস্য ব্যাপার এটা। আমি জানি না সামনে কী অপেক্ষা করছে।’
