এসইসি ও ডিএসইর তদারকির অভাবে শেয়ার আত্মসাৎ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:৪১ এএম

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) যথাযথ তদারকির অভাবেই গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন তামহা সিকিউরিটিজের প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা। এখন ব্রোকারেজ হাউজের মালিক ডা. হারুনুর রশীদসহ অন্যদের বিচারের আওতায় এনে শেয়ার ও অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানিয়েছেন ব্রোকারেজ হাউজটির কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারী।

রাজধানী ঢাকার পল্টনে আল রাজী টাওয়ারে সিএমজেএফ মিলনায়তনে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তামহা সিকিউরিটিজের প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা দাবি করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সিডিবিএল সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এ ঘটনা ঘটত না। ব্রোকারেজ হাউজটির গ্রাহক ফখরুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। এ সময় আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের উদ্দেশে বিনিয়োগকারীরা বলেন, ‘যেখানে অর্থের নিরাপত্তা থাকবে না, সেখানে মানুষ বিনিয়োগ করবে না। আমাদের বাঁচান, পুঁজিবাজারকে বাঁচান।’

তামহার গ্রাহকরা জানান, তারা এসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের আহ্বানে অনেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এখন তারা নিঃস্ব। এমন নয় যে, তারা শেয়ারে বিনিয়োগ করে লোকসান করেছেন, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার গাফিলতির কারণে তাদের অর্থ ব্রোকারেজ হাউজের মালিক হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সঠিক তদারকির অভাবে একই ঘটনা ঘটেছিল ক্রেস্ট, বানকোসহ আরও কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজে। এ দায় এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সিডিবিএল কোনোভাবে এড়াতে পারে না এবং যেকোনো উপায়ে গ্রাহকদের টাকা ও শেয়ার পাওয়ার ব্যবস্থা এদেরকেই করতে হবে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৯ নভেম্বর ব্রোকারেজ হাউজ তামহা সিকিউরিটিজের লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ডিএসই। তামহা সিকিউরিটিজের মালিকপক্ষ গ্রাহকদের প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে ডিএসইর এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ব্রোকারেজ হাউজটি প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের শেয়ার ও জমাকৃত টাকার হিসাব রাখতে দুটি পৃথক ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে আসছিল। একটি দিয়ে প্রকৃত তথ্য এবং অন্যটি দিয়ে ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করত হাউজটি।

ফখরুল ইসলাম বলেন, আত্মসাৎ করা টাকা ও শেয়ার ফিরে পাওয়ার আশায় গত তিন মাস এসইসি ও ডিএসইর দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছি। কিন্তু কবে নাগাদ তা ফেরত পাব কেউই তা বলতে পারছেন না। ব্রোকারেজ হাউজটির মালিক ডা. হারুনুর রশীদেরও নাগাল পাচ্ছি না। তার প্রতিনিধিরা শুধু টাকা ফেরতের আশ্বাস দিচ্ছেন। এ ঘটনা প্রকাশ হলে ‘পুঁজিবাজারে পতন’ হতে পারে এমন ভয় দেখিয়ে শুরুতে এ বিষয়ে অভিযোগ না করার জন্য অনেক গ্রাহককে অনুরোধ করেছিলেন ব্রোকারেজ হাউজটির মালিক।

এক প্রশ্নের জবাবে তামহা সিকিউরিটিজের ভুক্তভোগী গ্রাহক মুজিবর রহমান জানান, তিনি তার ছেলে ওবায়দুর রহমানের বিও অ্যাকাউন্টে নিজের পেনশনের ১৩ লাখ টাকার পুরোটা বিনিয়োগ করেছিলেন। এ বিনিয়োগ থেকেই তিনি পরিবারের দৈনন্দিন খরচ ও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতেন। শেয়ার ও টাকা আত্মসাৎ হওয়ার কারণে এখন পুরো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। তিনি দ্রুত টাকা ও শেয়ার ফিরিয়ে দিতে এসইসি ও ডিএসইর কাছে আবেদন করেছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, ব্রোকারেজটির লেনদেন স্থগিত হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত তারা শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ই-মেইলও পেয়েছেন। আদতে তা ছিল ভুয়া। ব্রোকারেজ হাউজটি গ্রাহকদের শেয়ার ও অর্থের প্রকৃত হিসাব রাখার জন্য ভিন্ন একটি ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করত, তার সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএলের সংযোগ ছিল। ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পাল্টে ফেলে। এ কারণে গ্রাহকদের কেউই সিডিবিএল থেকে শেয়ার লেনদেনের কোনো মোবাইল এসএমএস পেতেন না। শত শত গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পাল্টে ফেলার বিষয়টি জানার পর সিডিবিএল যদি তদন্ত করত, তাহলেও এ আত্মসাৎ এড়ানো যেত বলে মনে করেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত