চুরির অভিযোগে কিশোরকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:৩০ এএম

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় নুডলস চুরির অভিযোগ এনে সাদ্দাম হোসেন নামে এক কিশোরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা শহরের হাফিজ মোড়ের মুদি দোকানি শেখ আমানুল্লাহ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের সুতাইল গ্রামের শেখ আমানুল্লাহ দীর্ঘদিন হাফিজ মোড়ে মুদি ব্যবসা করে আসছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে রাধিকাগঞ্জের সাদ্দাম হোসেন দোকান থেকে দুই প্যাকেট নুডলস চুরি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর তাকে মারধর করেন তিনি।

এ বিষয়ে শেখ আমানুল্লাহ বলেন, ‘প্রায়ই আমার দোকানে চুরি হচ্ছে, টের পেলেও চোর ধরতে পারছিলাম না। মঙ্গলবার নারকেল তেল ও নুডলস চুরির সময় সাদ্দামকে হাতেহাতে ধরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজিত থাকায় তাকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করি। পরে বুঝতে পেরেছি, এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।’

আলমডাঙ্গা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সাদ্দামকে উদ্ধার করা হয়। চুরির ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালীরচর বাঁশচালা গ্রামে চোর সাব্যস্ত করে সালিস বৈঠকে রানী বেগম নামে এক গৃহবধূকে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন লোলা। টাকা দিতে না পারায় প্রায় তিন সপ্তাহ গৃহবন্দি রয়েছেন তিনি।

জরিমানার টাকা জোগাড়ে রানী বেগম এখন বসতভিটা বিক্রির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কালীরচর গ্রামে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনের বাড়িতে সিঁদেল চুরির ঘটনা ঘটে। পরে ‘পানি পড়া’র মাধ্যমে রানী বেগম ও তার ছেলে অন্তরকে চোর শনাক্ত করা হয়। দুদিন পর টুমচর ইউপি কার্যালয়ে সালিস বৈঠকে তাদের ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ইউপি চেয়ারম্যান।

রানী বেগম বলেন, ‘সালিসে ছেলেসহ আমাকে চার ঘণ্টা আটকে রেখে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। টাকার জোগাড়ে বসতভিটা বিক্রির জন্য ঘুরলেও কেউ সহায়তা করছে না। অপবাদের কারণে সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। উপায় না পেয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করেছি।’

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন লোলা বলেন, ‘গ্রাম আদালতের বিচারে চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে রানী বেগমকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি টাকা দিতে স্বীকার করেছেন।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা পর্যায়ে এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত