দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পর নতুন মোড়কে পুরনো যন্ত্রপাতি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ঠিকাদারের যন্ত্রপাতি সরবরাহের পর মোড়ক খুলে বুঝে নেওয়ার সময় জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মধ্যে একটি এক্স-রে মেশিন বারকোডবিহীন সাত বছর আগের পুরনো মডেলের। এ ছাড়া যন্ত্রটির অনেক জায়গায় মরিচাও ধরেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ যন্ত্রপাতি যাচাই-বাছাই করতে ৮ সদস্যের একটি কমিটি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ লাখ টাকার ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাফাত এন্টারপ্রাইজ প্রা. লিমিটেড যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজটি পায়। পরে সেসব মালামাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করলে দেখা যায়, এক্স-রে মেশিনটি সাত বছর আগের বারকোডবিহীন পুরনো মডেলের। এ ছাড়া যন্ত্রটির অনেক জায়গায় ইতিমধ্যে মরিচা ধরেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিজানুল হক প্রিন্স বলেন, ‘আমরা ঢাকার বিএমএ ভবন থেকে মালামাল কিনেছি। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা সরাসরি এসে এসব মালামাল দেখার পর যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি আছে মনে হলে তা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ও যন্ত্রপাতি যাচাই-বাছাই কমিটির প্রধান ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাচাই-বাছাই এখনো প্রক্রিয়াধীন। তবে ইতিমধ্যে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের সমস্যটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আমরা বিল পরিশোধ না করতে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। এ ছাড়া এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
আর যন্ত্রপাতি যাচাই-বাছাই কমিটির মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরনো মালামাল পরিবর্তন করে দিতে বলা হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশিদা আক্তার বলেন, ‘হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো বিল দেওয়া হবে না।’
